শিগগিরই চালু হচ্ছে খুলনা হার্ডবোর্ড মিল

বিজনেসটাইমস২৪.কম
খুলনা, ২৪ নভেম্বর, ২০১২:

খুলনা হার্ডবোর্ড মিল চালু করতে ১০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। ফলে শিগগিরই চালু হচ্ছে এ মিল। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি মিলটি চালুর জন্য সরকারের দেয়া অর্থ হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), যা থেকে এরই মধ্যে সাড়ে ৯৪ লাখ টাকা হার্ডবোর্ড মিলকে দিয়েছে বিসিআইসি। মিল কর্তৃপক্ষ ওই টাকা দিয়ে মেইনটেন্যান্স কাজ শুরু করেছে।

মিলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ জুন থেকে খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের উত্পাদন বন্ধ হওয়ার পর আগস্ট মাসে ১০ কোটি টাকা ছাড় দেয়ার ব্যাপারে নমনীয় হয় সরকার। সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মিলের মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বিসিআইসি থেকে মিলে সাড়ে ৯৪ লাখ টাকা পৌঁছেছে বলে সূত্র জানায়। এ টাকা দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত উত্পাদন শুরুর নির্দেশ রয়েছে বিসিআইসির।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রুহুল আমিন বলেন, মোট ১০ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। এ থেকে প্রথম কিস্তির টাকা এসে পৌঁছেছে। এ টাকা দিয়ে মেইনটেন্যান্স সম্পন্ন করে উত্পাদন শুরু করতে অন্তত তিন থেকে চার মাস লাগবে। তার পরও বিসিআইসির কাছে ৫ মাসের সময় চাওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই মিলটি উত্পাদনে যাবে।

হার্ডবোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হান্নান বলেন, বিসিআইসির নতুন বেতন কাঠামো ও অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে মিলের উত্পাদন স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিক-কর্মচারীদের সহযোগিতা থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, হার্ডবোর্ড মিলের কাছে পাওনা টাকা আদায়ে ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে হার্ডবোর্ড ডিলার অ্যাসোসিয়েশন। তাদের পক্ষ থেকে মিল কর্তৃপক্ষ ও বিসিআইসির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। মিলটি দ্রুত চালু করে তাদের হার্ডবোর্ড প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা না হলে মামলা থেকে কর্তৃপক্ষ রেহাই পাবে না বলেও উল্লেখ করেন অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিকদার মনির হোসেন বলেন, যেহেতু দেশীয় কাঁচামাল দিয়েই মিলটি চালু হবে, তাই দেরি না করে দুই মাসের মধ্যেই মিলটির উত্পাদন শুরু করা সম্ভব। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ অহেতুক সময় নষ্ট করছেন। শুকনো মৌসুমে হার্ডবোর্ড উত্পাদন শুরু করতে না পারলে বাজার ধরে রাখা যাবে না বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*