সিরাজগঞ্জে ৫০ হাজার তাঁত বন্ধ : বেকার হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক শ্রমিক

বিজনেসটাইমস২৪.কম
সিরাজগঞ্জ, ২৫ নভেম্বর, ২০১২:

সুতা, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং উত্পাদিত বস্ত্র সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ সমস্যার কারণে সিরাজগঞ্জে ৫০ হাজার তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক শ্রমিক।

জানা যায়, জেলার তাঁতশিল্পে নিয়োজিত অধিকাংশ লোক এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের উত্পাদিত পণ্য প্রচলিত ব্যবস্থা এখনও অসংগঠিত। গড়ে ওঠেনি তাঁতবস্ত্র বিক্রি বা বিপণনের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠোমো। এছাড়া এই শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বন্ধ হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার তাঁত। এতে অনেক এলাকারই অনেক তাঁতি এখন অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম তাঁত অধ্যুষিত এলাকা। জেলায় তাঁতি পরিবারের সংখ্যা মোট ১৪ হাজার ৮৭০ এবং তাঁতসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি। প্রতি বছর এ জেলায় হস্তচালিত তাঁত থেকে প্রায় ২৩ কোটি মিটার বস্ত্র উত্পাদন হয়ে থাকে। কিন্তু তাঁতিরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এ কারণে বন্ধ হয়ে পড়ছে তাঁত কারখানা।

স্থানীয় এক তাঁত শিল্পি জানান, তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ বেলকুচি-এনায়েতপুরে গ্যাসলাইন সংযোগ সরবরাহ না থাকায় তাঁতশিল্প সমৃদ্ধির জন্য তাঁতবস্ত্র ক্যালেন্ডারিং মিল, মাচব্রাইজিং মিল, কটন মিল জাতীয় শিল্প কারখানা স্থাপনের মতো যথেষ্ট সম্ভাবনা ও উদ্যোগী ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও এসব শিল্প-কলকারখানা এ এলাকায় প্রতিষ্ঠা লাভে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে বেলকুচি-এনায়েতপুরে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গ্যাস সম্প্রসারণ হলে এ এলাকায় গড়ে উঠবে তাঁতের সঙ্গে সম্পর্কিত বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং একই সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বেলকুচি উপজেলার তাঁত মালিক আজাহার আলী বলেন, তাঁতিদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, পিট তাঁতকে আধা স্বয়ংক্রিয় তাঁতে রূপান্তরিত করার ব্যবস্থা নেয়া, বিদেশ থেকে উন্নত মানের সুতা আমদানি করে তাঁতিদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তা হলে তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*