ফরিদপুর বিসিক শিল্পনগরী

অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ফরিদপুর, ২৮ নভেম্বর, ২০১২:

ফরিদপুরের কানাইপুরে বিসিক শিল্পনগরীর অর্ধেকের বেশি প্লটে কারখানা গড়ে ওঠেনি। অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসায়ীরা উত্সাহী হচ্ছেন না। বরং  অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

শহরতলির কানাইপুরে ১৯৮৭ সালে ১৫ দশমিক ৬০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে বিসিক শিল্পনগরী। এখানে মোট প্লট রয়েছে ১০৬টি এবং বর্তমানে কারখানা রয়েছে ৪২টি। ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া নিরাপত্তা জোরদার না করায় কারখানা থেকে চুরি হয়। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি আল আমিন কেমিক্যাল নামে একটি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এ শিল্পনগরীর এসএস ট্রেডার্সের ম্যানেজার নারায়ণ চন্দ্র দাস ও নীলা ফুডের ম্যানেজার উত্পল সাহা বলেন, নিয়মিত সার্ভিস চার্জ দিচ্ছি। কিন্তু কোনো সেবাই পাচ্ছি না। তারা জানান, বিসিক কর্তৃপক্ষ কোনো সময় ড্রেন পরিষ্কার করে না। বৃষ্টি এলেই ড্রেনের ময়লা ও দুর্গন্ধে এখানে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

রয়েল ফার্নিচারের ম্যানেজার মো. এমদাদুল্লাহ জানান, দুইবার কারখানায় চুরি হয়েছে। শেষবার তাদের মূল মেশিনের মোটর চুরি হয়েছে। এরপর থেকেই উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। এখানে চুরি হলে তার বিচার বা কোনো প্রতিকার হয় না। ফলে দিনের পর দিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

পার্থ জুট স্পিনার্স মিলের প্রজেক্ট হেড খুশবুর রহমান বলেন, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, তার মিলে প্রায় দেড় শতাধিক নারী শ্রমিক কাজ করেন। এদের মাঝে যাদের শিফট রাতে শেষ হয়, তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কারণ মিলের বাইরে বখাটে মাদকসেবীরা সবসময় থাকে। এ মুহূর্তে সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা বেশি জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বিসিকের স্টেট অফিসার মিয়া শহীদ হাসান বলেন, দেশের কোনো বিসিক শিল্পনগরীতে সীমানা প্রাচীর নেই এবং এটি করারও কোনো পরিকল্পনা নেই। নিয়ম হচ্ছে, প্লটের মালিকরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করবেন। পানির সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, ৩ ঘণ্টা পানি দেয়া হয় এ তথ্য সঠিক নয়, পানি দেয়া হয় মোট ৬ ঘণ্টা।

বিসিক ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আবদুস সালাম মোল্যা বলেন, ড্রেনেজ ও রাস্তা মেরামতের জন্য বাজেট চাওয়া হয়েছে, বাজেট এলেই দ্রুত সংস্কার করা হবে। তিনি আরও জানান, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিসিকের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে শিল্পনগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত টহল বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, বিসিক থেকে একটি ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছিল, পরদিনই চোরদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় সব ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*