সংকুচিত হচ্ছে চলনবিলের শুঁটকি ব্যবসা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
পাবনা, ২৯ নভেম্বর, ২০১২:

শুষ্ক মৌসুমে বিলে পানি না থাকা, চাষাবাদে ব্যাপকহারে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং পুঁজিসংকটসহ নানা কারণে পাবনার চাটমোহর উপজেলাসহ চলনবিল অঞ্চলে শুঁটকির চাতাল সংকুচিত হয়ে আসছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে শুঁটকির ব্যবসা আগের মতো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।

চাতালমালিক ইয়ানুর হোসেনসহ অন্যরা জানান, চলনবিলে মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। কয়েক বছর আগেও যে পরিমাণ দেশী মাছ পাওয়া যেত, এখন তা পাওয়া যায় না। পাশাপাশি শুঁটকি সংরক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। মাছ শুকানোর পর তা দ্রুত বাজারজাত করতে হয়। তারা আরও জানান, উত্তরের মোকামগুলোয় চলনবিলের শুঁটকির বেশ চাহিদা। শুঁটকি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। সংরক্ষণের অভাবে চাতালেই অনেক শুঁটকি নষ্ট হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, প্রতি বছর কোটি টাকার শুঁটকি উত্পাদন হয় এ অঞ্চলে। এখন ব্যবসায়ীদের পুঁজির অভাব রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং স্থায়ী চাতাল স্থাপন করতে পারলে সারা বছরই ব্যবসা চলত বলে তারা জানান।

চলনবিলের ওপর নির্মিত হয়েছে বনপাড়া-হাটিকুরুল মহাসড়ক। যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায় এ অঞ্চলে উত্পাদিত মাছ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। শুষ্ক মৌসুমে এ বিলে পানি না থাকায় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। বোরো মৌসুমে ধান আবাদের সময় ব্যাপকহারে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে মাছের উত্পাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এসব কারণ প্রভাব ফেলেছে শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়ায়ও।

বিলপাড়ের মহিষলুটিসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মাছের আড়ত। চাটমোহর উপজেলার ডিকশিবিল, কুড়ালিয়াবিল, আফরারবিল, খলিশাগাড়ীবিল, বগাবিল, ডেঙ্গারবিল, হান্ডিয়াল চলনবিল, ছাইকোলা চলনবিলসহ বিশাল চলনবিলে মৌসুমের শুরু থেকেই অসংখ্য শুঁটকির চাতাল বসত। মত্স্যজীবী ও মহাজনরা বিলের পাশেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুঁটকি তৈরির জন্য চাতাল স্থাপন করতেন। চলত ডিসেম্বরজুড়ে। এখন এ অঞ্চলে কেবল বর্ষাকালেই পানি থাকে।

এ কারণে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়েছে। চলতি বছরও চলনবিল অঞ্চলে ছোটবড় শতাধিক চাতাল বসেছে। টেংরা, পুঁটি, চাপিলা, চিংড়ি, খলশে, টাকি, বাতাসি, পাবদা, শোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হচ্ছে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*