রংপুরে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে চলছে ঘানিশিল্প

বিজনেসটাইমস২৪.কম
রংপুর, ০১ ডিসেম্বর, ২০১২:

যখন দেশে বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে খাবার উপযোগী উপাদানের অস্তিত্ব না থাকার অভিযোগ উঠেছে তখন রংপুরের তেলের ঘানিগুলো ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও স্থানীয় স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাটি ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করছে।

অধিকাংশ তেলের ঘানি পরিচালনাকারীদের স্বল্প পুঁজি এবং অধিক দরিদ্রতা ঘানি চালু রাখতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাই ঋণদানকারী সংস্থাগুলো যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে একদিকে কিছু লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভোক্তাদের খাটি তেল প্রাপ্তি এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে বলে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের অভিমত।

তাদের দাবি সরকারি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আর্থিক সহায়তা করলে ঘানি শিল্পগুলো স্থানীয়ভাবে ভেজাল মুক্ত ভোজ্য তেলের অন্যতম উৎসে পরিণত হতে পারে। এছাড়াও তেল মাড়াই এর পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে প্রাকৃতিক সার এবং পোলট্রি ফিডের বেশকিছু চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

জানা গেছে, অধিকাংশ ঘানি মালিকরা নিরক্ষর এবং দরিদ্র হওয়ায় কোনরকম হিসেব নিকেষ না করেই তেলের ঘানি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ঘানির অন্যতম উপাদান সঠিক গরু নির্বাচন এবং গরুর নিয়মিত খাবার সংগ্রহ ঘানি মালিকদের পক্ষে কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে তারা বাধ্য হয় তেলের ঘানি বন্ধ করতে।

নগরীতে আগে ১০টির মতো তেলের ঘানি গড়ে উঠলেও বর্তমানে ৪টি তেলের ঘানি রয়েছে। বর্তমানে এগুলো নগরীর আর কে রোডে, পিটিসির বিপরীতে, কাচারি বাজার শিক্ষা অফিস সংলগ্ন, সিও বাজার এবং মাহিগঞ্জের সাতমাথা নামক স্থানে ব্যস্ততম রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায় গড়ে উঠেছে।

ঘানিগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ মণ সরিষা ভেঙে প্রায় ১ মণ সরিষার তেল উৎপন্ন হচ্ছে। ১ মণ সরিষার তেলের বর্তমান বাজার মূল্য হচ্ছে ৩শ টাকা কেজি দরে ১২ হাজার টাকা। তেল বের করার পর অবশিষ্ট অংশ (খইল) গো-খাদ্য এবং সারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য অনেকে কিনে নিয়ে যান।

কাচারী বাজার শিক্ষা অফিস সংলগ্ন অবস্থিত ঘানির মালিক সৈকত আহমেদ বলেন, ঘানির সরিষার তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন দুইটি শক্তিশালী গরু দিয়ে ঘানি ঘুরিয়েও ১ মণ সরিষার বেশি ভাঙা যায় না। অথচ টাকার অভাবে শক্তিশালী গরু কেনা তার পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় তেল উৎপাদন কম হচ্ছে।

এদিকে দুজন ব্যক্তি প্রতিদিনের হাজিরায় কাজ করছে। ব্যয় খরচ বেশি হওয়ায় লাভ কম হয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি জায়গায় তার ঘানিটি থাকায় সব সময় তাকে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে ডাচ বাংলা ব্যাংক রংপুর শাখার ম্যানেজার মোঃ মনঞ্জুর কাদেরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সকল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসরণ করে। ডাচ বাংলা ব্যাংক এর ব্যতিক্রম নয়। ঋণ গ্রহণে ইচ্ছুক কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রথমে দেখা হয় তাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা। আমাদের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু আছে। তবে যারা ঋণ নিতে আগ্রহী তাদের ব্যাংকে আসতে হবে। পাশাপাশি তারা যদি আমাদের নিয়ম পালন করতে আগ্রহী হয় অবশ্যই ঋণ দেয়া হবে।

শুধু সৈকতের ঘানি নয় অন্য তিনটি ঘানিও রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায় অবস্থিত। প্রত্যেক ঘানির মালিকের ব্যবসার ধারাবাহিকতার প্রধান অন্তরায় হচ্ছে তাদের দরিদ্রতা। তাই সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের অতীত ঐতিহ্য ঘানি শিল্প যে টিমটিম করে জ্বলছে হয়তো আর কিছুদিন পর পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। তাই সময় এসেছে ভোজ্য তেলের ভেজাল প্রতিরোধে ঘানি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি অল্প সুদে ঋণ দান কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে ব্যাংক গুলোকে। তবেই টিকতে পারে রংপুরের ঘানি শিল্প।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*