রপ্তানি কমেছে রাবার শিল্পের

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১২:

সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে রাবার শিল্প। শিল্পটির রপ্তানি নানা প্রতিবন্ধকতায় হুমকির মুখে পড়েছে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি কমেছে ৯৬ লাখ ডলার বা ৩৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাবার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। আর রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে প্রায় ১৮ শতাংশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে রাবার শিল্প।

২০১০-১১ অর্থবছরে রাবার ও রাবার জাতীয় পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছিল ২ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরে ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এ হিসেবে আগের বছরের তুলনায় গত অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ৪৪ লাখ ডলার বা ২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২০১১-১২ অর্থবছরে রাবার ও রাবার জাতীয় পণ্য রপ্তনিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি কমেছে ৯৬ লাখ ডলার বা ৩৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

ইপিবির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত রাবার থেকে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ২ হাজার টন রারার রপ্তানি করা সম্ভব। ইপিবি মনে করে, রাবার রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাবার উৎপাদনে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি এবং আমদানি নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন।

ইপিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মাটি এবং আবহাওয়া রাবার চাষের জন্য উপযোগী। দেশে বার্ষিক রাবার উৎপাদনের পরিমাণ ১০ হাজার টন। সহযোগিতা পেলে প্রতিবছরই রাবার উৎপাদন বাড়বে। প্রতি মাসে উৎপাদিত রাবারের এক-তৃতীয়াংশ অব্যবহৃত থেকে যায়।

রাবার বাগান মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার টন রাবার উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১৫ হাজার টন। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতিমাসে ৫০০ টন রাবার রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেলেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশীয় বাজারে এক কেজি কাঁচা রাবারের দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আর আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম ২৩৮ থেকে ২৪০ ডলার। তাই এ খাত থেকে বছরে কমপক্ষে বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

জানা গেছে, বিশ্বের রাবার আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, জার্মানি, কেনিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, কানাডা, ইতালি, যুক্তরাজ্য অন্যতম। অন্যদিকে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, ক্যামেরুন, গুয়েতেমালা রাবার রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।

উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে এসব দেশ বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট নিয়োগ করে উন্নতমানের রাবার উৎপাদন ও রপ্তানি করে বর্তমানে রপ্তানি ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া এসব দেশের সমমানের হওয়ায় এ দেশেও রাবার উৎপাদন বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, মূলধনের অভাব, অবকাঠামো দুর্বলতা, জমির স্বল্পতা ও যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে রাবার চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন দেশের উদ্যোক্তারা। ফলে দেশীয় পর্যায়ে এর উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কাঁচামাল স্বল্পতায় রাবার শিল্পমালিকরা পারছেন না চাহিদা অনুযায়ী রাবার পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে।

কৃষক পর্যায়ে কাঁচা রাবার উৎপাদন কম হওয়া এবং শিল্প কারখানায় রাবার জাতীয় পণ্য উৎপাদন করতে না পারাই ধীরে ধীরে এ খাতের রপ্তানি আয় কমে আসছে। এ অবস্থায় সরকারি সহযোগিতা না পেলে সম্ভাবনাময় এ খাতের রপ্তানি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ রাবার শিল্প অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুর গাফফার বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শ্রমিক সঙ্কটের কারণে বর্তমানে আমাদের শিল্পের উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পাওয়ার কারণে আমরা কারখানা চালাতে পারছি না।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*