বিলুপ্তির পথে সাঁথিয়ার খয়ের শিল্প

বিজনেসটাইমস২৪.কম
সাঁথিয়া, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১২:

সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার খয়ের শিল্প বিলুপ্তির পথে। উপজেলার বোয়ালমারি গ্রামে এখন মাত্র একঘর খয়ের চাষি রয়েছেন। সহযোগিতা না পাওয়ায় তারাও এ পেশা ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন।

মনোয়ারা খাতুন (৬০) ও তার ছেলে তোতা মিয়া (২৫) এখন একমাত্র চাষিঘর। মনোয়ারা জানালেন তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। খয়ের উৎপাদন পদ্ধতি সম্বন্ধে জানালেন, প্রথমে খয়ের গাছ এনে কুড়াল দিয়ে কেটে দুই তিন ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা করে টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর বিশেষ রকম চুলায় আটটি হাঁড়ির মধ্যে রেখে জ্বাল দেয়া হয়।

এভাবে  সংগৃহীত লাল রঙের  দ্রবণকে বড় একটি কড়াইতে করে জ্বাল দেয়া হয়। নালি গাঢ় হলে বড় পাত্রে ঢালা হয়। প্রান্তিক খয়ের  চাষিরা ‘নালি খয়ের’ মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন। মহাজনরা খয়েরের কেক তৈরি করতে ও ছায়ায় শুকাতে ৩-৪ মাস সময় লাগায়। এজন্য রয়েছে বড় বড় গোডাউন।

গোডাউনে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নালি খয়ের ছেঁকে  জ্বাল দিয়ে খয়েরের কেক তৈরি হয়। সাধারণত পাঁচ কেজি খয়ের গাছের টুকরো থেকে এক কেজি নালি খয়ের তৈরি হয়। এক মণ নালি খয়ের প্রায় তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

মনোয়ারা জানালেন স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে খয়ের গাছের প্রাচুর্য ছিল, দামে সস্তা ছিল। এখন খয়ের গাছ বিলুপ্তির পথে, দামও চড়া। যে গাছ তখন একশ’ টাকা দিয়ে কিনতেন এখন তার দাম ১০ হাজার টাকা। পুঁজির অভাবে অনেক সময় গাছ কিনতে পারেন না। আবার কিনলেও মহাজনের কাছ থেকে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যায় না, লাভের পরিমাণ থাকে সামান্য।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকঋণ পেলে তারা অন্তত পেশাটি ধরে রাখতে পারতেন। পুঁজি সংকটের পাশাপাশি ভেজাল খয়ের আমদানির কারণে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী খয়ের শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে। তিনি জানান, রাজশাহীর চারঘাট ও পাবনার সাঁথিয়াতেই খয়ের শিল্প গড়ে উঠেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানের সঙ্গে খাওয়া ছাড়াও রং তৈরির ক্ষেত্রে এবং ট্যানারি শিল্পে খয়েরের ব্যবহার বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতাহীন, পরিচর্যাহীন ও অবহেলা অনাদরে হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় খয়ের শিল্প।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*