চাই সুষ্ঠ-সুন্দর বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২:

Shahriarবাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপট ও বাজারের সংকট ও সম্ভাবনার উপর সাম্প্রতিক চিত্র অনুসারে সামগ্রীক একটা বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা জরুরীভাবে দেখা দিয়েছে। বিচার-বিশ্লেষণ করা ছাড়া সার্বিক কোন সিদ্ধান্ত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন প্রয়োজন হয় সামগ্রিক মূল্যায়ন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বর্তমান আমাদের দেশের পুঁজিবাজার একটি ক্রান্তীকাল সময় পার করছে আর এ মুহূর্তে সকলে অপেক্ষা করছি একটি সুষ্ঠ-সুন্দর টেকসই-মজবুত পুঁজিবাজারের। সঠিক-সুন্দর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশটা পরিমাপ করবার জন্য শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ও দক্ষতা নয়, তাহার পাশাপাশি প্রয়োজন বাজার নিয়ন্ত্রণকারীদের স্বচ্ছ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ন এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সর্বসময় আমাদের প্রত্যাশা সু-সংগঠিত বাজার ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং শক্তিশালী বাজার তৈরির জন্য নীতি নির্ধারক মহল যথাযথ গুরুত্ব দিবেন এটা আমাদের কাম্য।

বর্তমানে আমাদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। বিশ্ব আর্থিক সংকটের প্রথম দিকে তারা তাদের পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় পুঁজিবাজারে কোন প্রভাব পড়েনি বরং নিজস্ব শক্তি, দক্ষ বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উৎসাহে শক্তিশালী অবস্থান নেয় যা আমাদের জন্য শুভ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্থিক, অনার্থিক, সংস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগ জরুরী ভাবে প্রয়োজন। এই ক্রান্তিলগ্নে এস.ই.সি. ডি.এস.ই. সি.এস.ই. সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ এই বাজারকে শক্তিশালী করণের জন্য বহুমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করা জরুরীভাবে প্রয়োজন। একই সাথে যে সকল নাগরিকবৃন্দ দেশের বাইরে অবস্থান করেছে তাদেরকে উৎসাহ অনুপ্রেরণার মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের ব্যবস্থা করা।

এই মূহুর্তে আমাদের দেশের সামগ্রিক ক্ষেত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নানা সমস্যা আর এই সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করণের জন্য পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও পরিধি বিস্তারের ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্যে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একটা টেকসই মজবুত বাজারের প্রত্যাশা করতে পারি।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, জ্ঞান বিদ্যা বুদ্ধি বিবেক এর সমন্বয় মানুষ। অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে বলতে হয়, এই বাজারে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় ঝড় অতিবাহিত করছে। তার পরেও বাজার পূনরায় তার আপন গতিতে সুস্থ অবস্থানে এসেছে। এবারের চিত্র তার বিপরীত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ ইতিবাচক ধারায় মন্তব্য করেনি। করেছে বাজার বিমুখ মন্তব্য। এটা আমাদের প্রত্যাশা নয়।

বাজারের এই ক্রান্তিলগ্নে নির্বাচিত এই সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারে মানুষের মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি এই পুঁজিবাজারকে শক্তিশালীকরণ ও আস্থা ফেরানোর সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহন করবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। সরকারের পক্ষে সময়ের স্বল্পতা ও নির্ধারিত দিন-ক্ষনের মধ্যে সব দাবী-দাওয়া পূরণ সম্ভাব নয়, তখন প্রয়োজন হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা। সেক্ষেত্রে ক্রান্তিকাল হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পুঁজি বাজারের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও বেকারত্ব নিরসন ও দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে দ্রুত সমৃদ্ধিকরণ সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠ-সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন নতুন কোম্পানীকে বাজারে নিয়ে আসা। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ষ্টক একচেঞ্জ এর তালিকাভূক্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে নিয়মিত লেনদেন করছে। বর্তমানে জেলাশহরগুলোতে যে সকল ব্রোকারেজ হাউজ আছে সেখানে অধিকাংশ বেকার যুবক, ছাত্র, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবিসহ নানান পেশার লোক জড়িত শেয়ার ব্যবসায়।

বলা যায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উৎস এই পুঁজিবাজার। এই পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব ও দারিদ্র বিমোচন সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজার ব্যবস্থাপনা এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার হলে দেশে দারিদ্রতা, বেকারত্ব সহ অপরাধ প্রবণতা ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধি পাবে। জরুরী ভাবে প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থাপনাকে উন্নীতকরণ করা, তাহলে মুক্তি পাবে লাখো পরিবার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে, কমে যাবে দেশের অস্থিরতা, দেশে সৃষ্টি হবে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগ একত্রীকরণের ফলে বাজার যেমন বড় হচ্ছে, সেই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ নতুন কোম্পানীকে বাজারে নিয়ে আসা ও বাজারবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা। এটা হবে আমাদের জন্য মঙ্গল।

আমাদের দেশে উৎপাদনশীল খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উৎপাদনশীল খাতের মাধ্যমে যেমন দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা সম্ভব, তার পাশাপাশি কৃষিখাত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে ক্ষেত্রে কৃষির পাশাপাশি শিল্পায়ন জরুরী। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্টতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। শিল্প-কলকারখানা বা বৃহত্তর কোন নির্মাণের ক্ষেত্রে পুঁজি বা অর্থের জোগান আবশ্যক। যা পুঁজি বাজারের মাধ্যমে দ্রুতভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব। যেকোন দেশের বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সে দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর অন্যতম ভূমিকা পালন করে। তার পাশাপাশি টেকসই মজবুত পুঁজিবাজার অন্যতম ভূমিকা পালন করে। আমরা সকলেই জানি, শিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড! তদরুপ একটি দেশের অর্থনৈতিক ভীত নির্ণয়ের অন্যতম মাপকাঠি পুঁজিবাজার। এই পুঁজিবাজারকে জরুরীভাবে প্রয়োজন টেকসই ও মজবুত করা এবং সকল সমস্যা নিরসন করা। সেক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ ও নতুন নতুন শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবেনা।

বর্তমানে আমাদের দেশে পুঁজিবাজারকে কেন্দ্র করে নানা ধরণের জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালোভাবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা। তাহলেই সম্ভব দেশের উন্নয়ন। তার পাশাপাশি বলব সরকারি সংস্থার শেয়ারগুলো দ্রুতভাবে বাজারে ছেড়ে দেওয়া এবং বাজারকে সংস্কার করা। বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আমাদের পুঁজিবাজার সংকট বা বিপদজনক নয়। এখানে আছে অনেক সম্ভাবনা। সম্প্রতি বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভয়াবহ একটা পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে হলে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, মার্চেন্ট ব্যাংক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের বাজারে পূনরায় প্রবেশ জরুরী। একই সাথে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেন আস্থা না হারায় তার ব্যবস্থা করা। তাহলে বাজার সু-সংগঠিত হবে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং সংকটময় সম্পন্ন। বাজারের এই গতিকে স্থিতিশীল করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাজারের প্রতি নজর রাখতে হবে এবং সকল সমস্যা দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের জন্য অবশ্যই কাঠামোগত সংস্কার সংশোধন প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে বাজারকে সমৃদ্ধকরণ এবং আস্থা ফেরানোর জন্য মাননীয প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, এসইসি, ডিএসই, সিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান আইসিবি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও মনিটরিং আবশ্যক। পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বড় বিনিয়োগকারী নয়, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বাজারের প্রাণ। বাজারের প্রাণ না থাকলে বাজার থাকে কেমন করে। আজকের পুঁজিবাজার পতনের অন্যতম কারণ গুজব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। গুজব নির্ভর না হয়ে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার ক্রয় করলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। আর বাজার ব্যবস্থাপনাকে পূর্বের ন্যায় করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নমনীয় আচারণ ও সংস্কার মূলক পদক্ষেপ আশু প্রয়োজন। একই সাথে আর্থিক অনার্থিক প্রতিষ্ঠান যাতে দ্রুত বাজারে অংশ গ্রহন করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার বিষয়ক কাউন্সিলিং আবশ্যক। কারণ, আমাদের বাজারের প্রসার ব্যাপক কিন্তু কোন কর্মশালা নেই। যেসকল জেলাতে ব্রোকারেজ হাউজ আছে সেখানে প্রতি মাসে একবার কাউন্সিলিং প্রয়োজন। বাজার যখন প্রসার হয় তখন বাজার অস্থির হয় এবং অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় আর ক্ষতির ভাগটা তাদের উপর বর্তায়। পুঁজিবাজার কখনোই টানা মূল্য বৃদ্ধি পায়না। দর উঠানামা করে। এজন্য আমাদের সকলের মনে রাখা উচিৎ মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার ক্রয় করা এবং গুজবে কান না দেওয়া। পুঁজিবাজার অস্থির করে তোলে গুজবকারীরা। এজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য মঙ্গল। আর এজন্যে বাজার সংশ্লিষ্ট সব কিছু ষ্টক এক্সচেঞ্জ ও এসইসি’কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। বিনিয়োগকারীরা যখন কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে নিজেদের সচেতন করে তুলবে, বাজারকে বুঝবে তখনই একটা টেকসই মজবুত বাজারের সৃষ্টি হবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া। ঋণ ব্যবহারে যেমন লাভ হয়, তার থেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এজন্যে এক্ষেত্রে আমাদের সকলের সংযত হওয়া প্রয়োজন। এই মুহূর্তে মুমুর্ষ এই বাজারকে বাঁচাতে প্রয়োজন ঃ-

সুষ্ঠ-সুন্দর বিনিয়োগবান্ধব বাজেট, বাজারের প্রাণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, পূনরায় ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দর সমন্বয় এর ব্যবস্থা করা, অপ্রদর্শীত আয়কে পুনরায় বাজারে আসবার সুযোগ দান, বাজারে তারল্য প্রবাহ সৃষ্টি, গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহার, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধি, টিআইএন প্রত্যাহার করা, ঋণের হার ১ঃ২ করা, সরকারের কাছে থাকা সকল শেয়ার অফলোড করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, এই বাজারের জন্য আপোদকালীন ফান্ড গঠন, সর্বসময় বাজারের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বাজারে আরো মিউচুয়্যয়াল ফান্ড আনা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন আরো বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে তার জন্য আইন সংশোধন করা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইপিও কোটা বৃদ্ধি করা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ক্রয়ে যেন ঋণ পায় তার ব্যবস্থা করা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড যেন রাইট বোনাস দিতে পারে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহন করা।

আর পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে ডিএসই, এসইসি ও সরকারকেই আস্থার জায়গা সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে পুঁজিবাজারকে কোন ক্রমেই প্রসার করণ সম্ভব নয়। যখন কোন কোম্পানী পাবলিক ইস্যুর জন্য এসইসি এবং ডিএসই এর নিকট আবেদন করে তখন অবশ্যই উক্ত শিল্প উদ্যোক্তার যোগ্যতা যথাযথভাবে সঠিক মূল্যায়ন ও যাচাই-বাছাই আবশ্যক। কারণ, উক্ত শিল্প উদ্যোক্তা যদি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে ব্যাংককে বাৎসরিক ঋণের উপর সুদ প্রদান করতে হয়। আর পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করলে শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করতে হয়। চলমান বাজারে অনেক প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছে কিন্তু লভ্যাংশ প্রদান করেনা শেয়ার হোল্ডারদের, যার ফলশ্র“তিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারী। এটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা বাজার বিমুখ হচ্ছে। বাজার এর উন্নয়ন এবং প্রসারের জন্য এই ধরণের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ এবং ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরৎ দেবার নীতিমালা প্রণয়ন করা। পুঁজি বাজার সংক্রান্ত অনেক ঝামেলা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উপর বর্তায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- বহুল আলোচিত ইউসিবিএল ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ অনেক মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। আমরা এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার হতে চাই না। আমরা এসেছি বিনিয়োগ করতে। আর এই বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে চাই। যেহেতু পুঁজিবাজার অর্থ সংশ্লিষ্ট স্থল সেজন্য আলাদা বেঞ্চ গঠন এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সাথে দুই ষ্টক এক্সচেঞ্জ ও এসইসিতে পৃথক ভাবে বাজার মূল্যায়ন কমিটি গঠন, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পরামর্শ কমিটিতে স্থান পাবে।

সরকার, এসইসি, ডিএসই, সিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক বলতে চাই, বাজার প্রসার ও টেকসই মজবুত করণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেন আস্থা ফিরে পায়। তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা। যে কোন ব্যবসা করতে গেলে ঋণের প্রয়োজন হয়, তদরুপ পুঁজিবাজারেও ব্যবসা করতে হলে ঋণ আবশ্যক। ঋণ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের উচিৎ ঋণের ভালো-মন্দ উভয়টা উক্ত গ্রাহককে বুঝানো। কারণ কোন গ্রাহক উর্দ্ধমুখী বাজারে কোন শেয়ার ক্রয় করল, মাঝপথে ঋণ প্রদান না করলে তার পক্ষে সমন্বয় করা সম্ভব নয়, তখন সে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ গ্রাহককে শেয়ার এর ইপিএস, নেভ, পিই, সম্বন্ধে অবগত করা। দেশ ও দশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং বাজারকে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের জন্য সকল সমস্যার সমাধান জরুরীভাবে প্রয়োজন।

উপসংহারে বলতে চাই, আমরা কোন মিছিল-মিটিং চাইনা, চাইনা ভয়াবহ ধ্বস্, চাইনা কোন দুঃসংবাদ, চাইনা সর্বস্ব হারাতে। চাই শুধু সুষ্ঠ-সুন্দর একটি বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার। কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেন প্রকৃতপক্ষে বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন ঘটে, কিন্তু বিনিয়োগকারীরা যেন আস্থাহীনতায় না ভোগে এবং বাজার বিমুখ না হয়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

(এ.এস.এম. শাহরিয়ার হাসান)

shahriarhasan_79@yahoo.com

খুলনা।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*