আল-আরাফা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের আত্মহত্যা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৬ জানুয়ারী, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি :

আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক মতিঝিলের পিপলস ভবনের ৮ তলা  থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার বেলা সোয়া নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে তার আত্মহত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া য়ায়নি বলে আল আরাফা ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর একরামুল হক জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি আফিসেই কাজ করছিলাম। হঠাৎ আমার পিয়ন খালিদ আমাকে বললো কে যেন লাফ দিয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তিনি (এনামুল হক) । পরে পুলিশ, র‌্যাব এবং ফায়ার ব্রিগেড বাহিনী এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।’

তার এ আত্মহত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিসিয়াল কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। আমি তার ফাইল দেখেছি। তার সব পাওনা আমরা মিটিয়ে দিয়েছি। গত ১০ জানুয়ারি আমরা তাকে সর্বশেষ পাওনা ৩৪ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

পুঁজিবাজারে তার কোনও বিনিয়োগ ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ১৭ মাস আগে যখন এখানে কাজে যোগ দেই তখন সবাইকে বলি চাকরি এবং ব্যবসা এক সঙ্গে করা যাবে না। তাই কেউ এখানে ব্যবসা নিয়ে কোনো কথা বলতে পারে না। কারও ব্যবসা আছে কি-না তা আমার জানা নেই।’

একরামুল হক বলেন, ‘লাফ দেওয়ার আগে তিনি জানালার কার্নিশ খুলে জানালার বাইরে গিয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন বলে এক টি বয় ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা আলিমকে জানান। পরে আলিম বিষয়টি খতিয়ে দেখার আগেই তিনি লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিলকুশা ব্রাঞ্চের সেকেন্ড ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জাহিদুল ইসলামকে ফোন করেছিল একরামুল। ফোনে সে বলেছিল দোস্ত আমাকে ক্ষমা করে দিস, আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’

এনামুলের এক সহকর্মী আলিম নামের ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকেও নাকি ফোন করে একই কথা বলেছে বলে তিনি জানান।

তবে নিহতের পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলে জানান একরামুল হক।

চিঠিতে কি উল্লেখ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতে পারি নি। তবে পুলিশ এ বিষয়ে বলতে পারে।

লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এনামুল হক ২০০০ সালে আল আরাফাহ ব্যাংকে যোগদান করে। হেড অফিসে আসার আগে তিনি বনানী ব্রাঞ্চে কাজ করতেন। পারে ২০০৫ সালে তিনি হেড অফিসে কাজে যোগ দেন। তিনি আজিমপুরের ১৫৩/৩, নিউ পল্টন (ইনানী কবরস্থানের পাশে) বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী একজন কলেজ শিক্ষিকা এবং তার এক পুত্র সন্তান রয়েছে।