বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের শনাক্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৭ জানুয়ারী, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি :

ডলারের দাম নির্ধারণে বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংক এবং এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর গত কয়েক মাসে ডলারের দর ওঠানামার হার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনো প্রতিষ্ঠানে ডলারের বিনিময়হারে অস্বাভাবিকতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসকে শনাক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন ও ভিজিলেন্স বিভাগ এবং ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ কাজ করছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালের শুরুতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর ছিল ৭০ টাকা ৯২ পয়সা। বছর শেষে তা ৮১ টাকা ৯৯ পয়সায় ঠেকেছে। সে হিসাবে এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ১১ টাকা ৭ পয়সা বা ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। জানুয়ারির ১৫ দিনে আরও প্রায় দুই টাকা বেড়ে গতকাল দর দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা। গত বছর আমদানিতে অতিমাত্রায় চাপ থাকায় এমন হয়েছে। ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউস ডলারের দরে বেশিমাত্রায় ওঠানামা করিয়েছে। যে কারণে গত ডিসেম্বরে আমদানি চাপ কমা এবং রেমিট্যান্স ও রফতানি বাড়ার পরও প্রতিনিয়তই টাকার বিপরীতে ডলারের দর বাড়ছে। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা করছে, তাদের শনাক্তের কাজ চলছে। এজন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদিনের ডলার ক্রয় ও বিক্রির মধ্যে পার্থক্য, আগের দিনের দরের সঙ্গে পরের দিনের তারতম্য এবং একই দিন অন্য প্রতিষ্ঠানে বিনিময় হার কত ছিল তা দেখা হচ্ছে। এতে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিনিময় হারে খুব বেশি পার্থক্য দেখা দেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ৯ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধের ফলে রিজার্ভ কিছুটা কমে এসেছিল। তবে সম্প্রতি আমদানি চাপ কমা এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স বাড়ার ফলে তা আবার বেড়ে গতকাল ৯৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৫৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম সপ্তাহে এসেছে ২৪ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আর দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেছে ২৯ কোটি ৪২ লাখ ডলার। এ ছাড়া নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে এলসি নিষ্পত্তির হার ১৯ শতাংশ এবং খোলার হার ২০ শতাংশ কমা ও রফতানিতে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের অবস্থানে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।