সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমেছে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৭ জানুয়ারী, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি :

কমে এসেছে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ। চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত সরকারের বাণিজ্যিক ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা ছাপিয়ে, ট্রেজারি বিল ও বন্ড এবং সরকারের গচ্ছিত আমানত থেকে এ ঋণ দিয়ে থাকে। নতুন টাকা ছাপানোর ফলে যেহেতু বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে যায় ফলে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যায়। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সার্বিক অর্থনীতিতে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অন্যদিকে সরকার আলোচ্য সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রেও সরকার ট্রেজারি বিল ও সিকিউরিটিজ বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে সমস্যা হয়। ফলে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন বন্ধ হয়ে যায়। নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন না হওয়ার ফলে কর্মসংস্থান হয় না। ফলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর ফলে দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধিতেও পড়ে বড় ধরনের প্রভাব।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে সরকার ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেলের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে তেল আমদানি করে। এই তেল আমদানি করতেই সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বড় কোনো ঋণ ছাড় না হওয়ায় এবং দাতাগোষ্ঠীর দেওয়া প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমদানি খরচ মেটাতে হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণের প্রবণতা কিছুটা কমে এসেছে। এটা আরও কমে আসবে কারণ এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকার ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্রগুলোতে আর তেল সরবরাহ করবে না। বেসরকারি উদ্যোক্তারাই এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেলের জোগান দেবে। এছাড়া আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অর্থ ছাড় পেলে এবং পদ্মা সেতুর বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছতে পারলে বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
চলতি অর্থবছরে সরকার নভেম্বর মাসে সর্বাধিক ঋণ নিয়েছিল। এ মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছিল ২০ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এর পর থেকে ঋণের পরিমাণ কমতে থাকে। বিভিন্ন সরকারি ঋণের মেয়াদ পূর্তি শেষে সরকারের কোষাগারে সেই অর্থ জমা হওয়ায় ঋণের পরিমাণ কমতে থাকে। গত দুই মাসের ব্যবধানে সরকার ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের ৪ হাজার ২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। এ খাতে সরকারের বর্তমান ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫৩ হাজার ৬০৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ১৭ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।