কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৮ জানুয়ারী, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি :

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার ৪২ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময় আদায় প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হলেও বিতরণ কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। অন্যদিকে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের ডিসেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ কমলেও খেলাপির হার বেড়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা, যা এ খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বা ওই সময়ে বিতরণ করা কৃষিঋণের ২২ দশমিক ২১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমলেও সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ৬টি ব্যাংকে খেলাপি বেড়েছে। কৃষিতে এসব ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৫ হাজার ৪৯৭ কোটি বা ২৭ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ২৫ শতাংশ। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি টাকা বা এ খাতে তাদের বিতরণ করা ঋণের মাত্র দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের বছর যা এক দশমিক ০২ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, কৃষিনির্ভর উন্নয়নশীল বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রথম সোপান কৃষি। ২০১৩ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসমপূর্ণতা অর্জন সরকারের লক্ষ্য। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার। আর এ লক্ষ্য। বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। বছর শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলেও প্রত্যাশা করেন গবর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নির্মল চন্দ্র ভক্ত বলেন, কৃষি প্রধান একটি দেশ হিসেবে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বনির্ভর অর্থনীতির স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে।
নির্মল চন্দ্র ভক্ত আরও বলেন, কৃষকের স্বার্থে আমরা স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছি। বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি তদারকি করছি। কৃষিঋণ বিতরণে তাদের অনুপ্রাণিত করছি। আশা করছি অর্থবছর শেষে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আগের খেলাপি ঋণ যোগ হওয়ায় এ খাতে মোট খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর অর্থবছরের শুরুর দিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে ওই সময়ে কৃষকদের মাঝে ঋণের প্রতি আগ্রহ ছিল না, যে কারণে আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম ঋণ বিতরণ হয়েছে। ঋণ বিতরণ বাড়াতে এবং খেলাপি কমাতে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। যেসব ব্যাংক ঋণ বিতরণে বেশি পিছিয়ে আছে এরই মধ্যে তাদের অনেকেই ঋণ বিতরণ বাড়াতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, কৃষি খাতে সব ব্যাংকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট ঋণের ন্যূনতম আড়াই শতাংশ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নীতিমালার আলোকে অর্থবছরের শুরুতে লক্ষ্যমাত্রা দেয় ব্যাংকগুলো। সে মোতাবেক এ খাতে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আগের বছর যা ছিল ১২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এবারে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিতরণের পরিমাণও বাড়ার কথা। অথচ তা না বেড়ে এবার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমেছে। কৃষি খাতে বেশিরভাগ ঋণ বিতরণ করে সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ৬টি ব্যাংক। এবারে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো পিছিয়ে পড়ায় সামগ্রিকভাবে এ খাতে কম ঋণ বিতরণ হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৬ মাসে ৩ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা কৃষিতে বিতরণ করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ খাতে এসব ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।