হারিয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য তিলের খাজা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ২১ জানুয়ারী, ২০১২:

সোহাগ
বিজনেসটাইমস২৪.কম
কুষ্টিয়া, ২১ জানুয়ারি : হারিয়ে যেতে বসেছে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী তিলের খাজা।

কুষ্টিয়ার তিলের খাজা পরিণত হয়েছে ক্ষুদ্র শিল্পে। সারা বছরই তৈরী করা হয় তিলের খাজা। তবে শীত মৌসুমে এর বেশ কদর রয়েছে। ফেব্র“য়ারী মাস পর্যন্ত চলবে তিলের খাজা মৌসুম। কুষ্টিয়ার হাজারো ঐতিহ্যর মধ্যে একটি তিলের খাজা। কুষ্টিয়ার তিলের খাজার নাম শুনলে জিভে জল আসে। এক সময় শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তিলের খাজা তৈরী করা হত। কালের আবর্তে এর কদর বেড়েছে দেশজুড়ে।

এটি এখন পরিণত হয়েছে একটি ক্ষুদ্র শিল্পে। এ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছে বাড়তি লোকের কর্মসংস্থান। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি করা হলে আরো এগিয়ে যাবে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা। আর এ কারণে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রসার ঘটছে না এসব ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের। স্বাধীনতার পর দেশের অনেক কিছু বদলালেও বদলায়নি এ শিল্পের সাথে জড়িত শিল্পীদের ভাগ্য। তিলের খাজা তৈরী শিল্পীদের সাথে কথা বললে এমনটিই জানান তারা। কুষ্টিয়ার তিলের খাজার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের সময়ে এর আবির্ভাব ঘটে কুষ্টিয়ায়। জানা গেছে এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে পাল সম্প্রদায়ের লোক এ উপাদেয় খাদ্যটি তৈরী করত। ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার আগে শহরের দেশওয়ালী পাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার তিলের খাজা তৈরী করত। এরপর থেকেই কুষ্টিয়ায় আস্তে আস্তে তিলের খাজার প্রসার ঘটতে থাকে। ৭১’র পর থেকে কুষ্টিয়া শহরের চর মিলপাড়া আস্তে আস্তে তিলের খাজার প্রসার ঘটতে থাকে। তখন থেকেই ক্রমে কুষ্টিয়ার তিলের খাজার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশ জুড়ে। বর্তমান কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় এর কারখানা রয়েছে। অন্য জেলার কারখানাতেও কুষ্টিয়ার  কারিগররা কাজ করছে। কুষ্টিয়া থেকে কাজ শিখে তারা অন্য জেলায় কাজ করছে। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত ১নং নিউ ¯েপশাল ভাই ভাই তিলের খাজা নামে ঢাকা, খুলনা, রাজবাড়ী, সৈয়দপুর এবং কুষ্টিয়ায় তৈরী হচ্ছে। কুষ্টিয়ার এ তিলের খাজার একক মালিক নেই। সারা দেশে যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হয় এর কারখানা। তবে কুষ্টিয়ার মূল দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল মজিদ মেম্বর। তিনি জানান, বর্তমানে তিলের খাজা মৌসুম চলছে। চলবে ফেব্র“য়ারী মাস পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, বর্তমানে  ২০০ কেজি তিলের খাজা প্রতিদিন উৎপাদন করা হচ্ছে। অন্য মৌসুমে ৮০-১০০ কেজি তিলের খাজা উৎপাদন করা হত। তিলের খাজা তৈরীরর প্রধান উপকরণ তিল ও চিনি। চুলায় চাপানো বড় লোহার কড়াইয়ের মধ্যে চিনি দিয়ে গণগণে আগুনে জাল দিয়ে তৈরী হয় সিরা। নির্দিষ্ট তাকে আসার পর নামানো হয় চুলা থেকে । হালকা ঠান্ডা হলে চিনির সিরা জমান বেধে যায়। তখন শিং এর মত দো-ডালা গাছের সাথে হাতে টানা হয় চিনির সিরা। এক পর্যায়ে বাদামী থেকে সাদা রঙে পরিণত হলে কারিগর বিশেষ কায়দায় হাতের ভাজে ভাজে টানতে থাকে। তখন এর ভিতর ফাপা তৈরী হয়। সিরা টানা শেষ হলে রাখা হয় পরিষ্কার পাত্রে। নিদির্ষ্ট মাপে কেটে তাতে মেশানো হয় খোসা ছাড়ানো তিল। এভাবেই তৈরী হয়ে গেল তিলের খাজা। পরে এগুলো প্যাকেট করে চালান দেওয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে। তিলেরর খাজা কারখানার মালিক আব্দুল মজিদ মেম্বর জানান, ব্যবসার জন্য যথেষ্ট পুজি প্রয়োজন। ব্যবসা বড় হলে এ পেশায় কয়েক হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। যা নির্ভর করছে সরকারী পৃষ্টপোষকতার উপর। সরকার যদি কোন প্রকার সহযোগিতা করতো তাহলে এ শিল্পকে আরও বড় করা যেত।