সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী আর নেই

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৬ মার্চ, ২০১৩:

image_26784বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সাংবাদিক এবং অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক চিত্রালীর সাবেক সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী (খোকা) আর নেই (ইন্নাৃরাজিউন)। দুপুর ২টা পঞ্চান্ন মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহমদ জামান চৌধুরী কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহমদ জামান চৌধুরী খ্যাতিমান সাংবাদিক, চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গীত রচয়িতা। এযাবৎ শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখে ঢাকার চলচ্চিত্রকে করেছেন ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ। তার কাহিনী, চিত্রনাট্য কিংবা সংলাপ মানেই তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়ে এসেছে বরাবর। আর তার লেখা পাঁচ শতাধিক হৃদয়ছোঁয়া গানও ঢাকার চলচ্চিত্রকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার ব্যঞ্জনা।

এসব কারণে ঢাকার চলচ্চিত্রে আহমদ জামান চৌধুরী এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত ছিলেন মানুষটি। একজন বিতার্কিক হিসেবে যেমন, তেমনই যে কোন বিষয় নিয়ে উপস্থিত বক্তৃতা দেয়ায় তার জুড়ি মেলা ভার।

ছাত্রজীবনে এ মাধ্যমগুলোতে দুর্দান্ত সাফল্যের সুবাদে পেয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা ও অসংখ্য পুরস্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালেই জড়িত হন সিনে সাংবাদিকতা ও ঢাকার চলচ্চিত্রের সঙ্গে। সাংবাদিকতা শুরু জনপ্রিয় সিনেমা পত্রিকা ‘চিত্রালী’ দিয়ে। পার্টটাইম চাকরি হিসেবে এ পত্রিকাটির একজন রিপোর্টার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এটা ১৯৭০ সালের দিকে। এরপর নানা দায়িত্ব পালন শেষে পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন দীর্ঘ ১০ বছর। সব মিলিয়ে চিত্রালীর সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন দীর্ঘ ২০ বছর।

চিত্রালীর পর তিনি দু’বছর ফিচার এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায়। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করে থাকেন। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিষয়ে পাঠদান করেন তিনি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও একই বিষয়ের ওপর পাঠদান করেছেন।

চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় আহমদ জামান চৌধুরীর রয়েছে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। চলচ্চিত্র বিষয়ক তার অসংখ্য রিপোর্ট, ফিচারধর্মী লেখা ও সম্পাদকীয় বহুল প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছে। চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাফল্যের সুবাদে এযাবৎ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এগুলোর মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, সলিমুল্লাহ হল চ্যাম্পিয়নশিপ পুরস্কার, ঢাকা হল চ্যাম্পিয়নশিপ পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

আহমদ জামান চৌধুরী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর তিন টার্মের সভাপতি হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার লেখা চিত্রনাট্যে নির্মিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-পিচঢালা পথ, নতুন নামে ডাকো, নাচের পুতুল, বাঁদি থেকে বেগম, আগুন, যাদুর বাঁশি, মাস্তান, তুফান, শেষ উত্তর, লাভ ইন সিঙ্গাপুর, শ্বশুরবাড়ি, মিস লংকা, দূরদেশ প্রভৃতি।

তার লেখা ব্যাপক জনপ্রিয় কিছু গানের মধ্যে রয়েছে- পিচঢালা এ পথটারে ভালবেসেছি, যেওনা সাথী, নতুন নামে ডাকবো তোমায়, কে তুমি এলে গো, ও দরিয়ার পানি, এ বৃষ্টিভেজা রাতে চলে যেও না, চুরি করেছো আমার মনটা, মাগো তোর কান্না আমি সইতে পারি না, যাদু বিনা পাখি যেমন বাঁচিতে পারে না, এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি কেন একা বয়ে বেড়াও, বিদায় দাওগো বন্ধু তোমরা এবার দাও বিদায়, প্রেম পিরিতি চাই বলে সবাই আমায় পাগল বলে প্রভৃতি।

আহমদ জামান চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর চাঁদপুর শহরে। পিতা শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক নূরুজ্জামান চৌধুরী। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে আহমদ জামান চৌধুরীর অবস্থান সর্বকনিষ্ঠ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স করেছেন তিনি।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*