গণমানুষের ইচ্ছার বাস্তবায়নে চাই গণবাদী নেতৃত্ব

আলী নিয়ামত
বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২১ মার্চ, ২০১৩:

একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আজও আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে  পারিনি? আমাদের নিজেদের ভিতরে আদর্শ এবং ঐক্যের অভাবে আজও আমরা অনেক পেছনের সারিতে অবস্থান করছি বিশ্ব মানচিত্রে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। অথচ শুধু জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে বহু দেশই আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অহংকার ও গর্বে কথা বলছে। যা দেখেও আমরা শিক্ষা নিই না।

প্রতিহিংসার রাজনীতি, ব্যক্তিস্বার্থের অসম্ভব রকমের হানাহানি, দেশপ্রেমের অভাব- এসব কিছুই গোটা জাতিকে গ্রাস  করে চলেছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ যেন ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই। জামাত-শিবির-জঙ্গি চক্র এখন  প্রকাশ্যে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত ১৮ দলীয় জোট ও এসব তাণ্ডবলীলার পথ্য-নেপথ্যের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে  চলেছে। এতকিছু চোখের সামনেই ঘটছে। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে।

সংবাদপত্র এবং মিডিয়ায় তা কোটি কোটি পাঠক-দর্শক পড়ছে এবং প্রত্যক্ষ করছে বিশ্বজুড়ে। এই পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে দেশে আজ প্রয়োজন গণবাদী নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব গণমানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে। গণমানুষের ইচ্ছাকেই বাস্তবায়ন   করবে। শাহবাগের গণজাগরণ সেই গণমানুষের ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করারই একটি সহায়ক শক্তি। এই জাগরণ চায় যুদ্ধাপরাধীর বিচার হোক।

তাদের দাবি ও প্রত্যাশা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি হোক- যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, করেছে গণলুন্ঠন এবং ধর্ষণ-পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী স্বীকৃত বাহিনী হিসেবে। এছাড়াও লক্ষ লক্ষ বাড়িঘর পুড়িয়েছে তারা।  একই সাথে এই জাগরণ সমুন্নত রাখতে উদ্যোগী হয়েছে একাত্তরের চেতনাকে। একুশের চেতনাকেও বুকে লালন করছে তারা। যা আজকের প্রজন্ম  প্রায় ভুলতে  বসেছিল।

যেমন মুক্তিযুদ্ধের সর্বজনীন জাতীয় জয়বাংলা শ্লোগানটিকে তারা ফিরে এনেছে গণমানুষের মুখে মুখে। দলীয় সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকে মুক্ত করে এখন মূলতই জয়বাংলা একটি জাতীয় এবং সর্বজন গৃহীত শ্লোগান হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই চেতনাকে কাজে লাগাতে হবে এবং এই চেতনার ওপর ভর করেই সামনের দিকে এগুতে হবে।

১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩ তম জন্মদিন। ২২ মার্চ বিল্পবী সূর্য সেনের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুর রহমানের জন্মদিন মার্চ মাসেরই ৮ তারিখে। ৭ মার্চ স্বাধীনতার আহবান দিবস, ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। তাই মার্চ মাসের  গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অন্য সব মাসের চেয়ে ভিন্নতা বহন করে। যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত  বয়ে চলবে-প্রবহমান নদীর মতো।

সেই গণজাগরণের গণবাদী নেতৃত্বের আশায়, প্রত্যাশায়। সমস্ত প্রতিকূল অবস্থায় বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশিত গণবাদী নেতৃত্বেরই অনেকটা বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে এবং ঘটিয়ে চলছে বলেই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি। এক্ষেত্রে গোটা জাতির ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখছে। সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*