জ্বালানি খাতের ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩:

gasনতুন করে গ্যাস সংকটে পড়তে পারে পুরো দেশ। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতেই এমনটি আশংকা করছে পরিকল্পনা কমিশন।

জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ খাতের ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র দশ শতাংশের নিচে। আর বাকি চার প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। অথাৎ শূন্য শতাংশ। অর্থবছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাতের প্রকল্পে ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি খাতের বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। আগামী মাসে এ প্রকল্পগুলোকে সংশোধন করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প শক্তি বিভাগের প্রধান শামিমা আখতার জানান, প্রধানত ভূমি সমস্যার কারণেই অধিকাংশ প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়ে। প্রায় সব প্রকল্পই বর্তমানে সংশোধনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি দু-তিন মাসের মধ্যেই এগুলো বাস্তবায়নে গতি ফিরে আসবে।

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শূন্যের কোটায় থাকা প্রকল্পগুলো হচ্ছে, সাপ্লাই এফিসিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট অব তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি প্রকল্প। এটি ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০১২ সালের অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের সময় দেয়া ছিল।

দ্বিতীয় ডি সিসমিক সার্ভে আন্ডার ফার্স্ট ট্রেক প্রোগ্রাম, এটি ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। টিএ প্রজেক্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, এটি ২০০৮ সালে সেপ্টেম্বর মাস থেকে গত বছরের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প, এটির বাস্তবায়নও শূন্য শতাংশ।

দশ শতাংশের কম বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে, মুচাই ও আশুগঞ্জ কমপ্রেসার স্টেশন স্থাপন প্রকল্প, এটির মেয়াদ ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তাবায়ন  হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। মনোহরদি-ধনুয়া, এলেঙ্গা-যমুনা সেতুর পূর্বপাড় গ্যাস সঞ্চালন পাইপ এবং আশুগঞ্জ-এলেঙ্গায় কমপ্রেসার স্টেশন স্থাপন প্রকল্প, এটি ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে  বাস্তাবায়ন  হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন  হয়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বর্তমানে এ প্রকল্পটিকে ভেঙে তিনটি আলাদা প্রকল্প তৈরি করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,  যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়-নলকা, হাটিকুমরুল-ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প, এটি ২০০৬ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু ২০১২ সালের নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

বনপাড়া-রাজশাহী গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প, এটি ২০০৬ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ।

কাপাসিয়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প, এটি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তয়ন হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ।

দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক প্রকল্প, এটি ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু ২০১২ সালের নবেম্বরের মধ্যে  বাস্তাবায়ন  হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। অগমেন্টেশন অব গ্যাস প্রোডাকশন আন্ডার ফার্স্ট ট্রেক প্রোগ্রাম, এটি ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তাবায়ন  হয়েছে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ।

বাপেক্সের গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন প্রকল্প (সালদা-৩, ৪ ও ফেঞ্জুগঞ্জ ৪,৫), এটি ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু ২০১২ সালের নবেম্বর পর্যন্ত  বাস্তাবায়ন  হয়েছে শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প, এটি ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা, কিন্তু গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত  বাস্তাবায়ন  হয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এছাড়া স্ট্রেংদেনিং দি রিসার্চ এন্ড এক্সপ্লোরেশন ক্যাপাসিটিজ অব জিএসবি প্রকল্প, এটি ২০০৯ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ।

স্ট্রেংদেনিং অব দি হাইড্রোকার্বন ইউনিট (দ্বিতীয় পর্যায় ) প্রকল্প, এটি ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কনস্ট্রাকশন অব এমএস স্টোরেজ ট্যাংক (১৭,৫০০ ঘনফুট ফ্লোটিং রুফ) এট ইআরএল প্রকল্প, এটি ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ হচ্ছে ৯ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৬১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। মন্ত্রণালয় হিসেবে এর সার্বিক আর্থিক অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অগ্রগতি তুলনামূলক কম, কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি বেশ হতাশাজনক। এ বিভাগের চারটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এখনও শূন্যের কোটায়। ১২টি প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দশ শতাংশের কম।

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে আওতায় ৩১টি প্রকল্পের বিপরীতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল এক হাজার ৫৮০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ৬৯৮ কোটি ২৭ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮৮২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা।

গত বছরের নবেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের পাঁচ মাসে ব্যয় হয়েছে মোট ৪০৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*