আমার শিক্ষক এবং আমার বাবা প্রয়াত রাখাল চন্দ্র দাশ

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩:

aআলেকজান্ডার দি গ্রেট- এর বাবা ফিলিপ দ্বিতীয় মেসিডনিয়ার রাজা ছিলেন প্রায় ২৩ বছর (খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৯-৩৩৬)। ইতিহাসবিদরা বলেন ফিলিপের রাজনৈতিক এবং সামরিক ভিত্তি ছাড়া আলেকজান্ডার দি গ্রেট কখনই বিশ্বমানের রাষ্ট্রনায়ক কিংবা সেনাপতি হতে পারতেননা। মাত্র ৩৩ বছরের আয়ুষ্কালে যে ব্যক্তি আয়নিয়ান সাগর থেকে হিমালয় পর্যন্ত জয় করতে পারেন সে ব্যক্তির জীবনে তাঁর বাবার প্রভাব যে অপরিসীম তা বুঝবার জন্য ইতিহাসের ছাত্র হতে হয়না।

কিন্তু আলেকজান্ডারের উখথানটা এতটাই অভাবনীয় যে এখনও ইউরোপ এবং আমেরিকার ছাত্ররা তাঁর জীবন এবং কর্ম নিয়ে পিএইচডি থিসিস করে। গবেষকরা বলেন আলেকজান্ডারের জীবনে ফিলিপ ছাড়াও অন্য একজনের প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। আর সে ব্যক্তিটির নাম অ্যারিস্টটল- হ্যাঁ আমি মহান দার্শনিক অ্যারিস্টটলের কথা বলছি। মেসিডনিয়ার যুবরাজ আলেকজান্ডার প্রায় চার বছর শিক্ষা লাভ করেন চিকিৎসা, ধর্ম, রাজনীতি, যুদ্ধ আর দর্শন বিষয়ে তাঁর গৃহশিক্ষক অ্যারিস্টটলের কাছে।

সর্বকালের অন্যতম সেরা সেনাপতি আলেকজান্ডার তাঁর শিক্ষক অ্যারিস্টটলের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এক ঐতিহাসিক উক্তির মাধ্যমে। বঙ্গানুবাদ করলে উনার উক্তিটি দাঁড়ায় এরকম ‘‘আমি আমার জন্মের জন্য বাবার কাছে ঋণী, কিন্তু ভালভাবে বেঁচে থাকবার জন্য আমি ঋণী আমার শিক্ষকের কাছে’’।

আলেকজান্ডারের উক্তিটি আমাদেরকে দাঁড় করিয়ে দেয় এক অমীমাংসিত প্রশ্নের মুখোমুখি: মানুষের জীবনে কার প্রভাব বেশী-একজন পিতার না একজন শিক্ষকের? এ নিয়ে অনেকের অনেক মত। আমার মনে হয়না একজন পিতা এবং একজন শিক্ষককে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিতর্ক করবার কোন অবকাশ আছে। পাশ্চত্য সমাজে একটি বাগবৃত্তি বেশ প্রচলিত: ‘‘কমপেয়ারিং এপলস এন্ড অরেঞ্জেস’’- আপেল এবং কমলা যেমন তুলনীয় নয়, আমার মনে হয় মানুষের জীবনে পিতা এবং শিক্ষকের ভূমিকাও তেমনি তুলনীয় নয়।

জীবনে অনেক শিক্ষকের সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য আমার হয়েছে- যে প্রাথমিক এবং হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম আমি, সে স্কুলগুলোর শিক্ষকরা মাতৃহীন আমাকে পরম আদরে বড়ো করেছেন, রাজশাহী কলেজের সকল শিক্ষককে আমার দেশসেরা শিক্ষক মনে হতো, এখনও হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ মেধাবী কিংবা বিদেশ ফেরত শিক্ষকদের বাঁচন ভঙ্গি, চালচলন নকল করবার চেষ্টা করতাম আমি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছি সেখানকার আমার এক শিক্ষক নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন একবার। আমার জীবনে যদি কোন সাফল্য থেকে থাকে তার জন্য আমি আমার সকল শিক্ষকের কাছে ঋণী। কিন্তু আমার জীবনে যার প্রভাব সবচেয়ে বেশী, তিনি আমাকে আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছেন, তিনি আমাকে ধৈর্যশীল হতে শিখিয়েছেন, তিনি আমাকে শিখিয়েছেন সবার উপরে মানুষ সত্য। তিনি আমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, তিনি আমার বাবা প্রয়াত রাখাল চন্দ্র দাশ।

আজ থেকে দশ বছর আগে ২০০৩ সনের ২৩শে এপ্রিল আমার বাবা প্রয়াত হয়েছেন। উনার কর্মবহুল জীবনে উনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন সমাজসেবক, একজন রাজনীতিবিদ, একজন শিক্ষানুরাগী, একজন জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং একজন আদর্শ পিতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ ডিগ্রী লাভ করবার পর উনি যোগদান করেন গ্রামীন জনপদের এক অজানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোহনপুর হাইস্কুলে, ১৯৫২ সনের জানুয়ারীতে। শুনেছি বিএ পাশ করবার পর উনার সুযোগ ছিল সরকারী কিংবা অন্য কোন উচ্চ পদস্থ চাকুরীতে যোগ দেবার, উন সে পথে যাননি। সমস্যায় জর্জরিত মোহনপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ গ্রহণ করেন ১৯৫২-র মে মাসে। তার পরের তিন যুগের ইতিহাস আমার বাবা আর মোহনপুরের ঐ স্কুলটির সংগ্রাম আর গৌরবের ইতিহাস। এই ইতিহাসের পথচলা ৪০/৪৫ জন ছাত্র/ছাত্রী, অনেক অভাব-অনটন, আর তার চেয়েও বেশী আশা-আকাঙ্খা নিয়ে। আমি শুনেছি যে ১৯৬২ সনের আগে কোন বিএ বা বিএসসি সহকর্মী উনি পাননি, অন্যরাও আসতেন আর বেতনের অভাবে কয়েক মাসের মধ্যেই চলে যেতেন অন্য কোথাও, অন্য কোন পেশায়। শ্রেণীপাঠদানের পর প্রতি বিকেল বা সন্ধ্যায় আমার বাবা বেরিয়ে পড়তেন তাঁর সহকর্মীদের সাথে নিয়ে ছাত্র সংগ্রহে কিংবা ভর্তিকৃত ছাত্রদের জায়গীরের ব্যবস্থায়। ষাটের দশকের শেষের দিক থেকে বিদ্যালয়টিতে ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বিদ্যালয়টি রাজশাহী অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিটতি পায়। বিদ্যালয়টি ছিল বাবার কর্মক্ষেত্র শুধু নয়, এ যেন ছিল তাঁর স্বপ্নের লালনভুমি, শিল্পীর ক্যানভাস। আশির দশকে পরপর দুইবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড-এ প্রথম স্থান অধিকার করে এই বিদ্যালয়ের দুইজন ছাত্র। শিক্ষা আর সাধনার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৯ সনে আমার বাবা অন্যতম জাতীয় শিক্ষকের পদ মর্যাদা লাভ করেন। মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের পাশাপাশি উনি সদা ব্যস্ত থাকতেন এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে। অনেকেই বলেন মোহনপুর-বাগমারা এলাকার এমন স্কুল, কলেজ অথবা মাদ্রাসা পাওয়া যাবেনা, যেখানে রাখাল বাবুর স্পর্শ নেই।

১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেছিলেন আমার বাবা, এবং এ আদর্শকেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আঁকড়ে ধরে রেখেছেন-কখনওবা আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে, কখনওবা রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে, কখনওবা আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন প্রত্যক্ষভাবে, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অন্যতম জাতীয় চার নেতা প্রয়াত জনাব এএইচএম কামরুজ্জামানের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং জনাব কামরুজ্জামান নিহত হবার পর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ পূনর্গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। দেশ ভাগ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নানা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং প্রতিকুলতার কারণে আমাদের অনেক আপনজন দেশ ছেড়েছেন, কিন্তু দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ, গভীর মমত্ববোধ, আর প্রগাড় ভালোবাসার কারণে উনি সে কথা মনেও আনেননি বরং অন্যদেরকে নিবৃত্ত করেছেন দেশ ছাড়তে। আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে প্রাচুর্যবান হবার সুযোগ যে বাংলাদেশে তিনি পাননি তা বোধ হয় নয় বরং উনি আমাদের সামনে রেখে গেছেন এক ব্যাতিক্রমি দৃষ্টান্ত।

এমন একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষাবিদকে আমি দেখেছি আমার শিক্ষক হিসেবে এবং আমার বাবা হিসেবে। এরকম দূর্লভ সুযোগ কজনই বা পায়। কাকডাকা ভোরে উনার দিন শুরু হতো, শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় এর ব্যত্যয় হতোনা। মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের পাশেই মাটির একটা বাড়িতে থাকতাম আমরা, ছাত্রদের থাকবার দুটো হোস্টেলও ছিল খুব কাছাকাছি। বাবা ছিলেন ঐ হোস্টেলগুলোর অলিখিত সুপারিন্টেনডেন্ট। আমার এবং ঐ হোস্টেলগুলোর সব ছাত্রের ঘুম ভাংতো বড্ডো অনিচ্ছায় এক দরাজ গলার আহ্বানে। সেই যে তাঁর যাত্রা শুরু হতো তা শেষ হতো গভীর রাতে হোস্টেলগুলোতে আরেকবার চক্কর দেবার পর। মোহনপুর ছেড়েছি প্রায় ২৫ বছর হল, অথচ সেই সোনালী দিনগুলি আজও এতটাই প্রাণবন্ত যে রাজশাহী কলেজের আমার স্বপ্নিল দুইবছর কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাবহুল আটটি বছর কিংবা প্রবাসের নিয়ম মেনে চলা ১৪টি বছর থেকেও আমি আলাদা করতে পারি আমার মোহনপুরের দিনগুলিকে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সময় কিংবা আমার ছেলেমেয়ের সাথে খেলবার সময় কিংবা ড্রাইভ করবার সময় হঠাৎ করে আমি হারিয়ে যাই সেই স্বপ্নলোকে-অগনিত ছাত্রের কোলাহল, বিজয় দিবস কিংবা শহীদ দিবসে মাইক বাজিয়ে গান শোনা, প্রীতি ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ, শীতের বিকেলে খেলার মাঠে বসে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ- এরকম হাজারো স্মৃতি ঘুরে ঘুরে আসে। আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী ছিলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক ছিলেন, আর্থিক সঙ্গতিও ছিল একেক জনের একেক রকম। বলাবাহুল্য ছাত্রদের মাঝেও ছিল এই বিভিন্নমুখিতা। কিন্তু তার কোন প্রভাব আমি যেমন দেখিনি ছাত্রদের মাঝে তেমনি দেখিনি শিক্ষকদের মাঝে। মোহনপুরের স্কলটির স্থান ছিল সবার উপরে।

মাইক রোজ যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়া লস এঞ্জেলস- এর ‘স্কুল অব এডুকেশান এন্ড ইনফরমেশান স্টাডিজ’ এর অধ্যাপক এবং জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ। উনার একটা প্রবন্ধগ্রন্থ ‘‘লাইভস অন দি বাউন্ডারী: এ মুভিং ইকাউন্ট অব দি স্ট্রাগলস এন্ড এচিভমেন্ট অব আমেরিকা’স এডুকেশানালী আন্ডার প্রিপেয়ার্ড’’ পড়ার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম কয়েক বছর আগে। যদিও অধ্যাপক রোজ প্রবন্ধগুলো লিখেছেন মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, প্রধান যুক্তিগুলোকে সহজেই আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাথেও মেলনো যায়। প্রবন্ধগুলোর সারমর্ম অনেকটা এরকম: শিক্ষার পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি ‘প্লেজান্ট এনভায়রনমেন্ট’ বা ‘শান্তিপূর্ন পরিবেশ’। এই ‘শান্তিপূর্ন পরিবেশ’ বলতে যে উনি কোলাহল মুক্ত একটি ক্লাসরুম কিংবা পরিপাটি করে সাজানো কোন বিদ্যালয়ের কথা বলেছেন তা আমি অন্তত মনে করিনা। আমি মনে করি একটা সফল বিদ্যালয়ের জন্য একটা সামাজিক আন্দলনের প্রয়োজন, সর্বস্তরের জনতার সম্পৃক্ততার প্রয়োজন। এরকম একটা পরিবেশ কারো একার পক্ষে তৈরী করা সম্ভব নয়-এর জন্য প্রয়োজন নেতৃত্ব, সততা, সহাবস্থান, বিশ্বাস আর শ্রদ্ধা। আমার সবসময়ই মনে হয় অধ্যাপক রোজ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়াতে যে ‘শান্তিপূর্ন পরিবেশ’- এর কথা বলেছেন আমি আমার হাইস্কুল জীবনে সেই পরিবেশের স্বাদ কিছুটা হলেও পেয়েছি রাজশাহীর প্রত্যন্ত এক জনপদে। বাবা তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে যে পরিবেশ তৈরী করেছিলেন তার অর্জন আজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশ এবং দেশের বাইরে।

বাবার জীবন এবং কর্মকে অনাগত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবার জন্য ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘‘তুমি রবে নীরবে: শ্রী রাখাল চন্দ্র দাশ স্মারক গ্রন্থ’’। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ অনীক মাহামুদের সম্পাদনায় স্মৃতিকথা লেখেন দেশের সুধীজন আর বাবার ছাত্র/ছাত্রী বৃন্দ, বাণী প্রদান করেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল। আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তাঁর বাণীতে লেখেন ‘‘আজ যখন ব্যক্তি, সমাজ, রাজনীতি সর্বত্রই অবক্ষয়ের উন্মত্ত পদচারণা চলছে, তখন ত্যাগী-নির্লভ-অসাম্প্রদায়িক চেতনায় শানিত ব্যক্তিত্বদের জীবনী, তাদের কর্ম, তাদের চিন্তা-চেতনা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারলে তা আমাদের আজকের তরুণ প্রজন্ম ও অনাগত প্রজন্মের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে’’। প্রায় আট বছর আগে লিখিত এই উক্তিটি আজ যেন আরও বেশী করে উপলব্ধি করছি আমরা সবাই। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় যে দেশের জন্ম, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার জন্য যে দেশের আপামর জনতার এতো ত্যাগ সে দেশে আজও সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রচন্ড শক্তিশালী, সে দেশে আজও গণতন্ত্র প্রায়শই আক্রান্ত হয়। শিক্ষাদান এবং শিক্ষালাভের জন্য যে ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ’-– এর প্রয়োজন তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দূর্নীতিমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সমাজ। এই সমাজ আমাদেরকে সহনশীল হতে শেখায়, অপরকে এবং নিজেকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়। শিক্ষাকে সবার ঘরে পৌঁছে দেবার জন্য আমার বাবার মতন অগনিত শিক্ষাবিদের যে আপ্রাণ চেষ্টা তা অধরাই থেকে যাবে যদি না আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।

কুমার পিয়াল দাশ
সহযোগী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ
লামার বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সাস, ইউএসএ
এবং
রিসার্চ ফেলো
স্ট্যাটিস্টিকাল এন্ড ম্যাথমেটিকাল সাইন্সেস ইন্সটিটিউট
রিসার্চ ট্রাঙ্গেল পার্ক, নর্থ ক্যারোলিনা, ইউএসএ

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*