দাম ও সময় বাড়ছে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গচ্চাও বাড়বে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ২১ জুলাই, ২০১৩:

63469_b1মেয়াদ ও ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ছে রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক) ও কুইক রেন্টাল (দ্রুত ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। এতে আগামীতে সরকারি কোষাগার থেকে গচ্চা যাওয়া অর্থের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

ইতিমধ্যে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে নয়টি কোম্পানির তালিকা তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। সহসাই কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। কোম্পানিগুলোর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ভাড়ায় চালিত নয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে অদক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন যন্ত্রাংশ দিয়ে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সন্ধ্যাকালীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জরুরি বলে মত দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র চিহ্নিত ও সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া, সমঝোতার ভিত্তিতে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কমিটির সুপারিশ করা নয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে- সিনহা পাওয়ারের আমনুরা ৫০ মেগাওয়াট, এনপিএসএলের কাটাখালী ৫০, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ১০৫, নোয়াপাড়া ৪০, মদনগঞ্জ সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ১০০, এ্যাকর্ন ইনফ্রার জুলদা ১০০, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারার কেরানীগঞ্জ ১০০, ডাচ্-বাংলা পাওয়ারের সিদ্ধিরগঞ্জ ১০০ ও ওরিয়নের  মেঘনাঘাট আইইএলের ১০০ মেগাওয়াট।

প্রতিবেদনে এসব কোম্পানি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ নয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নতুন মেশিনে তৈরি। যদিও আইনগতভাবে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে আইপিপিতে রূপান্তরের কোন সুযোগ নেই। তবে সরকার চাইলে বিশেষ আইনে এ নয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে আইপিপি করতে পারে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র ফার্নেস অয়েলে পরিচালিত হবে।

এছাড়া, ২০২০ সাল পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না আসা পর্যন্ত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিকল্প নেই।

এ মুহূর্তে ভাড়াভিত্তিক এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিলে লোডশেডিং বাড়বে। অন্যদিকে অদক্ষ কেন্দ্র বলতে ১১০ মেগাওয়াট ভেড়ামারা, ১০৫ মেগাওয়াট নোয়াপাড়া, ৫০ মেগাওয়াট কুমারগাঁও, ৫০  মেগাওয়াট শাহজীবাজার ও ৩৪ দশমিক ৬৫ মেগাওয়াট ভোলা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও এরই মধ্যে শাহজীবাজার ও ভোলা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মেয়াদ দুই বছর করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে বলা হয়েছে, ছয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র দশমিক ৫ থেকে ১ মেগাওয়াটের জেনারেটর দিয়ে স্থাপিত। এসব সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনা করা দুষ্কর। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ মেগাওয়াট পাগলা, ৫০ মেগাওয়াট ঠাকুরগাঁও ও এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনালের ৫৫ ও ৪০ মেগাওয়াট কেন্দ্র।

এর আগে গত এপ্রিলে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*