মূলধন ঘাটতিতে প্রিমিয়ারসহ ১১ ব্যাংক

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০১৩:

indexব্যাংকঋণের গুণগত মান কমে যাওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। কিন্তু এতে ব্যর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকও। সর্বশেষ হিসাবে, ব্যাসেল-২ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে প্রিমিয়ারসহ ১১টি ব্যাংক।

নিয়ম না মেনে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের কারণেই মূলত ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে। ব্যাসেল-২ অনুযায়ী, এ সম্পদের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। তবে জুন শেষে ব্যাংক খাতে মূলধন সংরক্ষণের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

জানা গেছে, জুন শেষে বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটিকে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে কমপক্ষে ৭৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে তারা সংরক্ষণ করেছে ৫৭০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান  বলেন, মূলধনে যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ হয়ে যাবে। শ্রেণীকৃত ঋণ কমে গেলে প্রভিশনিং কমে আসবে। মুনাফা থেকেও ঘাটতি পূরণ করা হবে। এছাড়া যেসব বন্ড ও সিকিউরিটিজ রয়েছে, তার মূল্যবৃদ্ধিও ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের জুন শেষে মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ৪১৪ কোটি, জনতার ১ হাজার ৬২৩ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংকের ২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৫০ কোটি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৩০২ কোটি ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া বিদেশী ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মূলধন ঘাটতি ৪৫ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ১৮৩ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৬৬৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি ব্যাংকও নিয়ম মেনে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারছে না। প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*