তহবিল বাড়াতে বিএইচবিএফসি ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩:

houseদেশের আবাসন খাতের ঋণ চাহিদা মেটাতে তহবিল বাড়াতে চায় বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে সরকারের কাছে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

সম্প্রতি গৃহনির্মাণ খাতে সরকারের একমাত্র আর্থিক এই প্রতিষ্ঠানটি ঋণ হিসেবে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন করেছে। এর প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল-মাল আব্দুল মুহিত এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা তৈরী করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. নুরুল আলম তালুকদার  বলেন, ‘সারাদেশে আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণের চাহিদা থাকলেও করপোরেশনের বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের যোগান কম থাকায় পর্যাপ্ত ঋণ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় তহবিল স্বল্পতা মেটাতে আমরা সরকারের কাছে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছি। এই অর্থ সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে থোক বরাদ্দ অথবা ঋণ হিসেবে দিতে পারেন।’

তিনি জানান, বিগত কয়েক বছরে জেলা, উপজেলা ও তৎসংলগ্ন গ্রোথ সেন্টারসমূহে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে ৫শ’ কোটি টাকার ঋণমঞ্জুরি ও ৪২০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া মূলধন, আমানত ও সুদযুক্ত ঋণ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল এবং ঋণের সুদ বাবদ বার্ষিক আয় থেকে ব্যয় ও দায় পরিশোধের অবশিষ্ট টাকা ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সংস্থাটির অপারেশনাল কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

সূত্র জানায়, এর আগে সংস্থার গৃহঋণ কার্যক্রমের সিংহভাগই ঢাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে শতকরা ৮৯ ও ১১ শতাংশ। কয়েক বছরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকার বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকায় বিশেষ করে জেলা সদর, উপজেলা ও গ্রোথ সেন্টারগুলোতে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

বর্তমানে করপোরেশনের নিট আয় থেকে (কর পরিশোধের পর) বছরে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগযোগ্য তহবিলে জোগান দেয়া সম্ভব। গ্রাহকের চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশী।

গ্রামীণ আবাসন ঋণ চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এবং শ্রীমঙ্গলে বিএইচবিএফসির অফিস খোলা হয়েছে। এতে করপোরেশনের মাঠপর্যায়ে অফিস সংখ্যা ২৫ থেকে ২৯টিতে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে করপোরেশনের ঋণের চাহিদা বেড়েছে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*