অর্গানোগ্রাম না থাকায় আইডিআরএ’র কার্যক্রমে ধীরগতি

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩:

1378272982IDRAদেশের বীমা খাত দেখভালের উদ্দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সাবেক বীমা অথরিটি বিলুপ্ত করে নতুনভাবে গঠন করা হয় ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ (আইডিআরএ)। তবে প্রতিষ্ঠার প্রায় আড়াই বছর চলে গেলেও এখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লোকবল বাড়ানো কিংবা স্বতন্ত্র দফতর চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়ায় একাজগুলো থেকে পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বিল্ডিং-২ এর চতুর্থ তলায় একটি ভাড়া ফ্লোরে কোনোমতে চলছে আইডিআরএ’র কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, দেশে কার্যরত বীমা কোম্পানিগুলো দীর্ঘসময় ধরেই  নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের মধ্যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বীমাখাতের এসব  অব্যবস্থাপনা দূর করে এখাতটিকে আরো সুন্দর, সচ্ছ এবং জনকল্যানমুখী করার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এপর্যন্ত সরকারি এ সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পরিপূর্ণভাবে সাজাতে না পারায় এর কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, স্থান সংকুলান না হওয়ায়  সংস্থাটির লোকবল বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না; একইভাবে মন্ত্রনালয় থেকে সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন না পাওয়ায় অনান্য কাজও চালিয়ে নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির পৃথক দফতর করতে রাজধানীর দিলকুশায় এইচবিসি টাওয়ারের ৯ম তলায় একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে থাকলেও এর উন্নয়ন কার্যক্রমেও উল্লেযোগ্য তেমন অগ্রগতি নেই।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে লোকবল বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি প্রস্তাবনা পাঠায় আইডিআরএ। ওই প্রস্তাবে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় লোকবলের সংখ্যা কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ১৭৯ জন উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে নির্ধারিত ছকে আবেদন না করায় অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তা সংশোধন করে নির্ধারিত ছকে প্রস্তাব করতে বলে। এরপর আবার আইডিআরএ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু এখনো মন্ত্রণালয় এবিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

বর্তমানে চেয়ারম্যানসহ চার সদস্য এবং চুক্তিভিত্তিক প্রায় ৬০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আইডিআরএতে  আছেন ।

জানা যায়, দেশে নতুন-পুরনো মিলিয়ে ৭৩টি বীমা কোম্পানি এবং অর্থনৈতিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ এ সেক্টরটির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ লোকবল যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিআরএ’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ দিন আগে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় এখনো তা অনুমোদন করেনি। ফলে কাজের সুবির্ধাথে চূক্তিভিত্তিক লোকবল দিয়ে সংকুচিত আকারে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*