রাজারহাটে নকশি টুপির কাজ করে শতাধিক নারী স্বাবলম্বী

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩:

indexকুড়িগ্রামের রাজারহাটে নকশি টুপির কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শতাধিক নারী। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজপড়–য়া ছাত্রীও রয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্রের স্ত্রী বীণা রানীর বাড়িতে দেখা যায় সেখানে নারীরা সুই-সুতা দিয়ে নকশি টুপি তৈরির কাজ করছেন। বীণা রানী জানান, ১৮ থেকে ২০ বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে অভাব-অনটন লেগেই ছিল। ছেলেমেয়ে জন্ম নেয়ার পর সংসারে অভাব-অনটন আরও বেড়ে গেলে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কোনো আয়বর্ধক কাজ করবেন। এরই অংশ হিসেবে ৭ বছর আগে তিনি স্থানীয় চায়না বাজারে অনুষ্ঠিত সেলাই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি নকশি টুপি তৈরির প্রস্তাব পান। সেই সুযোগকে হাতছাড়া করেননি তিনি। নিজে টুপি তৈরির কাজ করার পাশাপাশি তিনি এলাকার শতাধিক নারীকে নকশি কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ ধরে দেন। বর্তমানে এখানে নকশি টুপি তৈরির শ্রমিকরা একেকটি টুপিতে মজুরি হিসেবে ৩৫০ থেকে কোয়ালিটি অনুযায়ী ৫০০ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। বীণা রানী জানান, নিজের কাজের মজুরি ছাড়াও নকশি টুপি তৈরির এজেন্ট হিসেবে ১০০ টুপিতে ৩ হাজার টাকা হারে কমিশন পান তিনি। বীণা রানীর অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া কন্যা লিমা রানী ও ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা রানীও লেখাপড়ার পাশাপাশি তাকে নকশি টুপি তৈরিতে সহযোগিতা করে। ঢাকার কোম্পানি এসব টুপি তৈরি করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বলে জানা যায়। একই গ্রামের এইচএসসি পড়–য়া ছাত্রী পল্লবী রানী ও বীথি রানী জানান, তাদের এখন আর লেখাপড়ার খরচের জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা নিতে হয় না। বিনা পুঁজির কাজে নিয়োজিত পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের তপন চন্দ্রের স্ত্রী বেনু রানী, দিনেশ চন্দ্রের স্ত্রী গীতা রানী, সুদর্শন চন্দ্রের স্ত্রী সুচিত্রা রানী, কমল চন্দ্রের স্ত্রী কনিকা রানী এবং রশিক চন্দ্রের স্ত্রী ভারতী রানীসহ অন্যরা জানান, তারা সবাই বীণা রানীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা কেউই এখন আর সংসারের বোঝা নন, বরং নকশি টুপি তৈরির মজুরির টাকা থেকে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহনসহ সংসারে আর্থিক সহযোগিতা করছেন বলে জানান। শ্রমিকরা বলেন, টুপির পাশাপাশি নকশি পাঞ্জাবি বা নকশি শাড়ি তৈরির উদ্যোক্তা পেলে তারা আরও বেশি উপার্জন করতে পারতেন।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*