চুয়াডাঙ্গায় পচনরোগে উজাড় হচ্ছে মাঠের ফসল

বিজনেসটাইমস২৪.কম
চুয়াডাঙ্গা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩:

beচুয়াডাঙ্গা জেলায় ব্যাপকহার ফসলে পচনরোগ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা তাদের ফসলে নানাবিধ কীটনাশক ব্যবহার এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে শতচেষ্টা করেও ফসলের পচনরোগ প্রতিরোধ করতে পারছে না।

ফলে ধানসহ বিবিধ সবজি ফসলের মাঠ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এর কারণে কৃষককে প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে। কৃষকরা হতাশ হলেও কৃষিবিদদের দাবি কৃষকরা সময়মত ভাল কীটনাশক ব্যবহার করলে ফসলের পচনরোধ করা সম্ভব হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানসহ কাঁচা মরিচ, পটল,  বেগুন, পেঁপে, কলা, করোলা ও ধনে পাতাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কৃষকরা তাদের এসব ফসল রক্ষায় চরম বিপাকে পড়েছে।

জীবননগর উপজেলার চাষী আতিয়ার রহমানসহ একাধিক কৃষক জানালেন তাদের ফসলের সমস্যার কথা এবং অভিযোগ করলেন স্থানীয় কৃষি উপ-সহকারীদের বিরুদ্ধে। তারা জানালেন, প্রথমত বাজারের যত ভাল কীটনাশকই জমিতে দেওয়া হচ্ছে না কেন কোনোটাতেই কাজ হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রতিটি ফসলে ব্যাপকহারে পচালাগা রোগ দেখা দিয়েছে। গোড়া পচালাগা রোগে মাঠের পর মাঠ কাঁচা মরিচের গাছ মরে জমিতে শুকিয়ে যাচ্ছে। মরিচ গাছের গোড়া ও ডগায় পঁচা লেগে ও ডগায় পচা লেগে গাছ মরে যাচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে মরিচ গাছ তুলে জমি খালি করছে। এর কারণে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষককে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে। পটলের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে ফল ধরার সাথে সাথে পটল পচে যাচ্ছে। পটলের পাতা কোকড়ানো রোগ হয়ে পটল ধরছে না। বেগুনের ক্ষেত্রে বেগুন ধরার পর বড় বেগুন গাছে থাকতেই পঁচে যাচ্ছে এবং বেগুন গাছের ডগা ভাঙা রোগও হচ্ছে।

এছাড়াও সকল ফসলেই পচালাগা রোগ এক প্রকার ভাইরাসের মত বলে কৃষকদের অভিমত। কৃষকরা আরো জানায়, বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, পটল, বেগুন আর ধনে পাতায় ব্যাপকহারে পচালাগা রোগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠে না আসায় উল্লেখিত ফসলের কোনো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশী ধানসহ সবজি ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। কৃষকদের মরিচে পচালাগা রোগ প্রতিরোধে ভাল কীটনাশক ব্যবহার করলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিবুলা সরকার জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমতল জেলা। এ জেলায় ধান, পাট, পানসহ সকল প্রকার ফসল খুব ভাল হয়। কৃষকরাও ব্যাপকহারে আবাদ করে থাকে। তবে যে সমস্ত রোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় তার মধ্যে পচালাগা রোগটা খুবই খারাপ। এটি প্রতিরোধ করতে হলে কৃষককেও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে, পঁচা লাগার আগে ফসলে প্রথমেই ম্যানকোজেব নামক কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আর যদি পঁচা লেগে যায় তাহলে কৃষককে অবশ্যই যত দ্রুত পারে ফসলে কার্বডাজিম গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরো জানান, যদি কোনো কৃষি উপ-সহকারীর কথামত কীটনাশক ফসলে ব্যবহার করে কৃষকের ক্ষতি হয় তবে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী ওই কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় রোপা আমনের আবাদ হয়েছে ৪০ হাজার ৪শ’৫৫ হেক্টর, কাঁচা মরিচ ৮শ’২৫ হেক্টর, বেগুন ৪শ’৫০ হেক্টর, পটল ৩শ’১০ হেক্টর, কলা ৭শ’ হেক্টর, পেঁপে ১শ’৪০ হেক্টর এবং ধনে পাতা ৪শ’৭৫ হেক্টর।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*