অনন্য দেশি ফল ‘শরিফা’

বিজনেসটাইমস২৪.কম
মাগুরা, ০১ অক্টোবর, ২০১৩:

Ata folসুস্বাদু দেশি ফল শরিফা। এটি অঞ্চলভেদে নামের কিছু পার্থক্য আছে। শরিফা, আতা এবং নোনা নামেও পরিচিত।

এই প্রজাতির দুই ধরণের ফল দেখতে পাওয়া যায়। একটির চামড়া মসৃণ ও নোনতা স্বাদের বলে একে আতা বা নোনা ফল বলে। অন্য প্রজাতির ফল শরিফার চামড়ায় গুটি গুটি চোখ আছে। পরিচিত ও চাহিদাসম্পন্ন এই ফলটি এখন আর আগের মতো তেমন চোখে পড়ে না।

তবে দুই এই ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোষ। প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসালো অংশই খেতে হয়। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা।

এটি মাগুরাসহ দেশের কম বেশি সব জায়গায় জন্মে। বসতবাড়ির আঙিনায় তেমন কোন পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে উঠে শরিফা গাছ। এর বাণিজ্যিক চাষাবাদ তেমন হয়না বললেই চলে।
শরিফা গাছ বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছের আকার খুব বড় নয়। উচ্চতায় ৩ থেকে ৫ মিটার।

শীতকালে এর পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়, ফুল ধরে। পাতার আকৃতি বল্লমের মতো, অগ্রভাগ সরু। এর ফুল দেখতে কাঁঠালী চাঁপার মতো যার রঙ হালকা সবুজ থেকে সবুজাভ হলুদ হয়ে থাকে।

কাঁচা ফল খাওয়া যায় না। বেলে দো-আঁশ মাটিতে আতা গাছ ভাল জন্মে। বীজ থেকে এর চারা করা হয়। এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ফুল ধরে এবং ৪/৫ মাসের মধ্যে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ফল পেঁকে যায়।

শরিফা হৃৎপিন্ড আকৃতির হয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য উপাদান রয়েছে। পাকা আতার শাঁস মিস্টি হয়ে থাকে। খাওয়ার সময় জিভে চিনির মতো মিহি দানা দানা লাগে। এর কিছু ভেষজ গুণ রয়েছে। যেমন পাকা শরিফার শাঁস বলকারক, বাত-পিত্তনাশক ও বমনরোধক।

বাংলা একাডেমির লোকজ ঐতিহ্যর সংগ্রাহক ও মাগুরার ইতিহাস ঐতিহ্য গ্রন্থের লেখক সালাহ উদ্দিন আহমেদ মিল্টন বলেন, অত্যন্ত সুপরিচিত সুস্বাদু দেশি ফল  শরিফা। এই ফলের গাছ এখন  আর যত্ন করে কেউ আর রোপণ করে না। ফলটি এখন বিলুপ্তির পথে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*