রংপুরে হারিয়ে যাচ্ছে নারিকেল ও সুপারি

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ০৩ অক্টোবর, ২০১৩:

www.teknafnews.com_1_26465প্রচন্ড খরা, অনাবৃষ্টি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে রংপুর অঞ্চল থেকে নারিকেল ও সুপারি গাছের বাদা (ফলের দানা) হারিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির আঙিনায়, উঠানের ধারে, জমির আইলে সারিবদ্ধ নারিকেল গাছ যেমন শোভা পেত, তেমনি দিত সুস্বাদু ফল। কিন্তু কালের বিবর্তনে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও ফারাক্কার মরণ বাঁধে রাজিবপুরসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত খরা ও পানিশূন্যতায় বিলুপ্ত হতে বসেছে এ নারিকেল ও সুপারি গাছ। জানা যায়, নারিকেল অতিব সুস্বাদু ফল, সুপারি গ্রাম-বাংলার অতিথি আপ্যায়নে অতি সাধারণ একটি নিয়ম ছিল। গ্রামাঞ্চলে একজনের বাড়িতে অন্য প্রতিবেশী এলে তাকে পান-সুপারি দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। কিন্তু যেভাবে সুপারির দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে, তাতে গ্রাম-বাংলার সাধারণ মানুষের আর পান-সুপারি কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না ।

সরজমিনে রংপুর পৌর বাজারে পান-সুপারি হাটে গিয়ে দেখা গেছে, একটি সুপারির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ টাকা। একটি সুপারি কেটে ৫ বার পান খাওয়া যায় একজন লোকের, তাহলে মধ্যবৃত্তরা কীভাবে পান-সুপারি খাবে।

অপরদিকে ডাব পুষ্ট হয়ে নারিকেলে পরিণত হয়। ডাবে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়ামসহ ঔষধি গুণ রয়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের বিকল্প আর কিছু নেই। সব মিলে এ এলাকায় ডাব-নারিকেলের বিশেষ কদর। বিগত দশকে নারিকেল গাছগুলো সবল থেকে বেশি ফল দিত। বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনে গাছগুলো ক্রমান্বয়ে ক্ষীণ ও দুর্বল হয়ে পড়ছে। গাছগুলোর দুর্বলতার কারণে ফল ধারণক্ষমতা কমে গেছে। আগে নারিকেল ও সুপারি গাছে ১২ মাসই ডাব-নারিকেল, সুপারি পাওয়া যেত। বর্তমানে বর্ষা মওসুম ছাড়া তেমনটি চোখে মেলে না। আগের দিনে এলাকায় সারিবদ্ধভাবে নারিকেল ও সুপারি গাছ লাগানো হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে গাছ মরে যাওয়ার প্রবণতায় সারিবদ্ধ নারিকেল ও সুপারি বাগান আর তেমন নেই। দুই একটি বাগান থাকলেও তাতে জলবায়ুর প্রভাবে গাছগুলো ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। রংপুর কৃষি বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, ফারাক্কা বাঁধের কারণে এ অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

এ কারণে এ এলাকায় অতিরিক্ত খরা ও অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ফারাক্কা বাঁধের কারণে এলাকার নদ-নদীতে পানি থাকছে না। গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে কমতে গত দুই বছর থেকে প্রায় বৃষ্টি নেই বললেই চলে। রংপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা কামরূল হাসান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। এবার দেশের অন্য এলাকায় বৃষ্টি-বন্যা হলেও এ এলাকায় আষাঢ়ের শেষে ভাদ্র মাসেও বৃষ্টি মেলেনি। সেচ পাম্প চলছে ফসলি জমিতে। কিন্তু তেমনটি সুযোগ নেই বাড়ির আঙিনায় কিংবা পতিত জমিতে সেচ ব্যবস্থার। এতে বৃষ্টির অভাব অতিরিক্ত খরা ও পানিশূন্যতায় নারিকেল ও সুপারি গাছগুলো শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।

এ এলাকায় কোনো সময় নারিকেল গাছ বর্ষায় কিছুটা তরতাজা হলেও পরে পানির অভাবে গাছগুলো নুয়ে পড়ে। নারিকেল ও সুপারি গাছ অতিরিক্ত খরায় রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। শীতের সময় ঘনকুয়াশা আর গ্রীস্মের খরায় নারিকেল গাছ রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। রংপুর খামারবাড়ী কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে উপপরিচালক জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এবার সুপারি ও নারিকেল গাছে থাকে না। এর প্রভাব পড়েছে বর্তমান বাজারে। টাকা দিয়েও বাজারে নারিকেল ও সুপারি কিনতে পাওয়া যায় না। একইভাবে ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেন জানান, অতিরিক্ত খরায় এলাকা মরুভূমির রূপ নিয়েছে। বিগত দীর্ঘদিনের খরা ও অনাবৃষ্টিতে নারিকেল গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তবে এবারে তুলনামূলক বর্ষা না হলেও কয়েকবার বৃষ্টিতে গাছগুলোর চেহারার পরিবর্তনসহ ডাবের কড়ি, সুপারির বাদা দেখা দিয়েছে। কিন্তু ইঁদুরের উৎপাতে সেগুলো থাকবে না। এর প্রতিকার হিসেবে যদি কৃষি অফিস কোনো ভূমিকা পালন না করে তাহলে এ এলাকার নারিকেল ও সুপারি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। আমাদের উপজেলার চারপাশে যে নারিকেল গাছ আছে, যতেœর অভাবে সেগুলোও আজ মরতে বসেছে- দেখার যেন কেউ নেই।

তিনি আরও বলেন, পরিমিত বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো হলে নারিকেল, সুপারি গাছ ভালো ফল দেবে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত খরা ও শীতে ঘনকুয়াশার কারণে নারিকেল গাছ কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়। এতে বেশ কিছু নারিকেল ও সুপারি গাছ মারা গেছে। আগামীতে বৈরী আবহাওয়া না হলে গাছ ও ফল দুটি রক্ষা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*