এ বছর ৪৮০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের আশা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৭ অক্টোবর, ২০১৩:

tea-garden2220131007035414বাংলাদেশসহ চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ৪৮০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ তথ্য দিয়েছে দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের খবরটিতে বলা হয়, গত বছর সারা বিশ্বে ৪৬০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়। ২০১০ সালে চা উৎপাদন প্রথমবারের মতো ৪০০ কোটি কেজির মাইলফলক স্পর্শ করে। আগামী বছরের শুরুর দিকে এ পরিমাণ ৫০০ কোটি কেজি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে চা উৎপাদন বাড়ে ১০০ কোটি কেজি।

বার্ষিক ‘গ্লোবাল টি ডাইজেস্ট’-এর প্রকাশক রাজেশ গুপ্তা বিজনেস লাইনকে বলেন, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিশ্বব্যাপী ১১৭ কোটি ৭০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এ পরিমাণ ২০১২ সালের একই সময় ছিল ১০৬ কোটি ৬০ লাখ কেজি।

উৎপাদন বেড়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগস্টে মালাউই ও ইন্দোনেশিয়া ব্যতীত আর সব উৎপাদনকারী দেশেই পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

মালাউইতে এ সময় চা উৎপাদন ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি কমে হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার কেজি। ইন্দোনেশিয়ায়ও চায়ের ফলন ১২ লাখ কেজি কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ কেজি।

আগস্টে বাংলাদেশে চা উৎপাদন কমেছে। বাংলাদেশেও এ সময় চা উৎপাদন এক লাখ কেজি কমলেও চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তা ৬ লাখ ৬০ হাজার কেজি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার কেজিতে। শ্রীলঙ্কায় চা উৎপাদন বাড়ার প্রভাবে বছরের প্রথম আট মাসের সার্বিক উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। এ সময় দেশটির চা উৎপাদন ৭০ লাখ ৩০ হাজার কেজি বেড়ে ২২ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজিতে উন্নীত হয়।

আগস্টে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উগান্ডায় ৩৪ লাখ কেজি কম চা উৎপাদন হয়। এ সময় উৎপাদন কমলেও তা সার্বিকভাবে প্রভাব ফেলেনি। জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত দেশটির চা উৎপাদন ৩ লাখ ৩০ হাজার কেজি বেড়ে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার কেজিতে উন্নীত হয়েছে।

এদিকে আগস্টে ভারতে চা উৎপাদন ২ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় সামগ্রিক উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে বলে সরকারি তথ্য সূত্রে জানা গেছে। ভারতীয় টি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে ১৫ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এ পরিমাণ গত বছরের একই সময় ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ কেজি।

এ সময় পশ্চিমবঙ্গে চা উৎপাদন ২০১২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার কেজিতে উন্নীত হয়েছে। গতবার এর পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার কেজি। আসামে গত বছর ৯ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হলেও এবার তা দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার কেজি।

ভারতের দুই শীর্ষ চা উৎপাদক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম। আগস্টে মোট চা উৎপাদনের ৯০ শতাংশই হয় এ দুই রাজ্যে। তবে দক্ষিণ ভারতে পণ্যটির উৎপাদন ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার কেজি।
চলতি অর্থবছরও (এপ্রিল-মার্চ) ভারত ১৯ কোটি কেজি চা রফতানি করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় চায়ের তৃতীয় বৃহত্ বাজার পাকিস্তানে রফতানি কমায়ই প্রভাবিত হবে সার্বিক রফতানি।

টি ট্রেডারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ চাঁদ আগারওয়াল বলেন, চলতি বছর পাকিস্তানে রফতানি কমলেও অন্যান্য দেশে ভারতীয় চায়ের চাহিদা রয়েছে। তাই এবারো গত অর্থবছরের সমপরিমাণ চা রফতানি সম্ভব হবে। বিশ্বের দ্বিতীয় চা উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশ ভারত। ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশটির চা রফতানি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১১৩ কোটি ৫০ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*