নরসিংদীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩:

narsingdi_11688আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে পশু জবাই এবং গোস্ত কাটার দা, ছুড়ি, বটি, চাপাতি, চাকু ইত্যাদি তৈরি এবং মেরামতের জন্য একটানা কাজ করছেন তারা।

কোরবানীর পশু জবাই করার উদ্দেশ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে দা, ছুরি, চাকু, বটি ইত্যাদি কেনার ধুম পড়েছে। সাধারণ মানুষ ও কসাইদের ভিড় সেখানে লেগেই আছে। বছরের অন্যান্য সময় কর্মকার সম্প্রদায়ের তেমন কোন কাজ থাকেনা। সুদিন আসে কোরবানীর ঈদের সময় বেড়ে যায় ব্যস্ততা। নিস্তব্ধ রাতে কান ফাটা শব্দে কামার শিল্পীদের এ সরগর থাকবে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত।

নরসিংদীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় কামার শিল্পী অনেক কমে গেছে। লোহা ও কয়লার উচ্চ মূল্য হওয়ায় কর্মকারদের তৈরি জিনিস পত্রের তুলনায় আধুনিক যুগের কোম্পানির রেডিমেড চাকু-ছুড়ি ইত্যাতি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্য অহরহ বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য ছাড়া কর্মকারদের তৈরি জিনিস পত্রের চাহিদা দিন দিন কমে আসছে। অন্যদিকে বেচা বিক্রি এবং রোজগার কমে আসায় যে সকল কর্মকার তাদের বাব দাদার এ পুরনো পেশাকে আকড়ে ধরে আছে কোরবানীর ঈদকে ঘিরে আয় রেজগার বেড়ে যাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কামার শিল্পী দুলাল চন্দ্র কর্মকার বলেন, বছরের অন্যান্য সময় অলস ভাবে বসে পার করলেও কোরবানীর ঈদের সময় আমাদের বেচা-বিক্রি ও কাজের চাপ বেড়ে যায়। ঈদের ১৫-২০ দিন আগে থেকেই আমরা দা, বটি, ছুড়ি ইত্যাদি তৈরির অর্ডার পাই। এসব জিনিস তৈরি ও বিক্রি করে বর্তমানে দৈনিক ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করা যায়।

অপর কর্মকার মোবারক খান বলেন, বাপ দাদার পেশা হিসেবে আমরাও তা করে আসছি। কোরবানীর ঈদ এলেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কর্মকার সম্প্রদায়ের বছরের সিংগ ভাগ উপার্জন এসময়েই হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*