ড্যাপের শর্ত লঙ্ঘন করে ভূমি গ্রাস করেছে বসুন্ধরা

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০১৩:

bosundara_শুধু জোর-জুলুম, গুম আর হত্যা করেই নিরীহ মানুষের জমি দখল করে প্লট বাণিজ্য করে থেমে নেই বসুন্ধরা। অতীতে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা গড়তে গিয়ে হিন্দুদের বসতবাড়ি থেকে উৎখাত করে তাদের সব জমি-জমা দখল করেছে।

বছর দেড়েক আগে রাজধানীর খিলক্ষেতের কাঁঠালদিয়া এলাকায় সেই কুচক্রী মহল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বহু বাড়ি।

এভাবে বসুন্ধরার ভূমি আগ্রাসনের শিকার হয়ে বালুচরে বহু নিরীহ মানুষকে চাপা পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মানবকণ্ঠ।

সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর ড্যাপ (ডিটেল এরিয়া প্ল্যান) উপকমিটিকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিয়ে ড্যাপের শর্ত লঙ্ঘন করে ৫০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে বসুন্ধরা।

এদিকে ড্যাপ উপকমিটির দুর্নীতির মধ্য দিয়ে বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল, নিচু জলাশয় ও জলাধার এবং ভূমিকম্প জোনভুক্ত বিপুল পরিমাণ সরকারি খাসজমি, ভাওয়াল এস্টেট এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে চার হাজার বিঘা সম্পত্তি বসুন্ধরা হাউজিংয়ের ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি লিমিটেডের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে রাতারাতি ন্যূনতম ৫০ হাজার কোটি টাকার জমি প্রকল্পভুক্ত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার গোপন লেনদেন হয়েছে। পর্দার আড়ালে এই গোপন লেনদেনের পেছনে কয়েক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত উপকমিটির কার্যবিবরণী চূড়ান্ত করে গত ৩ অক্টোবর গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে উপকমিটির আহ্বায়ক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরার দফতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর তিনি ৩৭ পৃষ্ঠার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা শুরু করেন। কিন্তু প্রথমে তিনি এর ভেতরকার জাল-জালিয়াতি ধরতেই পারেননি।

তিনি সভায় সভাপতিত্ব করলেও তার কাছে মনে হয়েছে, কিছু রাস্তাঘাটের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন মাত্র। এরপর তার দফতরের কয়েক কর্মকর্তা ভূমিমন্ত্রীকে বিশদ ব্যাখ্যা করে অবহিত করেন যে, সভায় যেভাবে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে এখানে তা কাটছাঁট করে বসুন্ধরা হাউজিং প্রকল্পকে বাড়তি অনেক সুবিধা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভূমিমন্ত্রী ত্রুটিপূর্ণ ও জাল-জালিয়াতিতে ভরা এই কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। যে কারণে ফাইলটি মন্ত্রীর দফতরে এতদিন পড়েছিল। এর মধ্যে হঠাৎ রহস্যজনক কারণে ৬ অক্টোবর (রোববার) দুপুরে রেজাউল করিম হীরা তড়িঘড়ি এ ফাইলে জালিয়াতি বহাল রেখে স্বাক্ষর করে দেন।

এতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘ই’ থেকে ‘কে’ ব্লক পর্যন্ত অনুমোদন দেয়া হয়। আর ড্যাপের নকশা ও সমীক্ষায় উল্লিখিত কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট রাস্তার দু’পাশে ১০০ ফুট করে দুটি খাল খননের সিদ্ধান্তকেও প্রভাব খাটিয়ে পাল্টিয়ে দেয়। তারা নিজেদের সুবিধামতো রাস্তার দক্ষিণে খাল না রেখে (যেহেতু দক্ষিণে বসুন্ধরার জমি ও হাউজিং প্রকল্প রয়েছে) শুধুমাত্র উত্তর পাশে রাজউক ও বসুন্ধরা মিলে ৫০ ফুট করে ১০০ ফুট খাল খননের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ এই উপকমিটির কাছে অন্যান্য যেসব হাউজিং প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিল তাদের একটিকেও অনুমোদন দেয়া হয়নি। আর কৌশলে কয়েকশ’ একরের জলাধার ও বন্যাপ্রবাহ এলাকা আরবান এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

জাল-জালিয়াতি করে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের আওতায় আনা ‘ই’ থেকে ‘কে’ ব্লক পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০২ বিঘা (প্রায় ৮৬ হাজার ৪০ কাঠা) জমির দাম কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে ‘এম থেকে পি’ ব্লক পর্যন্ত আরো পাঁচটি ব্লক যুক্ত হওয়ায় বর্ধিত জমির মূল্য দাঁড়াবে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ এক লাখ কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে ভুক্তভোগীরা মনে করেন, এভাবে সরকারি জমি ও ড্যাপের শর্ত লঙ্ঘন করে অনুমোদন দেয়ার পেছনে কী এমন স্বার্থ কাজ করেছে তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*