ঠাকুরগাঁওয়ে মাসকালাই চাষ বেড়েছে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঠাকুরগাঁও, ০৬ নভেম্বর, ২০১৩:

masঠাকুরগাঁওয়ে মাসকালাই চাষ বেড়েছে। গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৫শ’ ২৩ হেক্টর মাসকালাই চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে ৬শ’ ৬০ হেক্টর।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, মাসকালাই শিম পরিবারের অন্তর্গত একটি ডাল জাতীয় ফসল। দেখতে অনেকটা মুগডাল গাছের মত। তবে বীজের আবরণ দেখতে কালো। রবি ও খরিপ উভয় মৌসুমেই মাসকালাই চাষ করা যায়।

ডাল ছাড়াও পাপড় ও দৈবড়া তৈরিতে মাসকালাই এর ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। জনপ্রিয় খাবার হালিম তৈরিতেও মাসকালাইয়ের তুলনা হয় না। সবুজ সার ও পশু খাদ্য হিসেবেও মাসকালাইয়ের চাষ হয়ে থাকে।

মাসকালাই বীজ বপনের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে পরিপক্ক হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়াতে মাসকালাইয়ের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। একক বা মিশ্র ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। চাষ দিয়ে জমি তৈরি করে শেষ চাষের সাথে হেক্টর প্রতি ৪৫-৫০ কেজি ইউরিয়া, ৮৫-৯০ কেজি টিএসপি, ৩৫-৪০ কেজি এমপি সার ও ৩৫-৪০ কেজি মাসকালাইয়ের বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়।

রবি মৌসুমে আমন কাটার পরপর ও খরিপ মৌসুমে  ফাল্গুনের মধ্যভাগ হতে শেষ পর্যন্ত এবং ভাদ্র মাসের ১৫ দিনের মধ্যে মাসকালাই বপন করা হয়। তবে রবি মৌসুমের তুলনায় খরিপ মৌসুমে আগাছার প্রকোপ বেশি হয়। বীজ বপনের ২০ দিনের মধ্যে একবার আগাছা দমনের প্রয়োজন হয়।

মাসকালাই উৎপাদনে সেচের প্রয়োজন হয় না। জাত ও মৌসুম ভেদে ৬০-১১৫ দিনে ফসল পাকে। গাছে ৯০-৯৫ ভাগ শুর্টি পাকলে শুর্টি সংগ্রহ করে ৩-৪ দিন রোদে শুকিয়ে লাঠির সাহায্যে শুর্টি হতে বীজ আলাদা করা হয়। পরে বীজগুলোকে পরপর কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে ৮-১০ ভাগ আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করা হয়।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ না ঘটলে হেক্টর প্রতি ১-৫ টন বীজ পাওয়া যায়।

সদর উপজেলার ইয়াকুবপুর এলাকার রমেশ বলেন, গত বছরের মতো এবারও ডাঙ্গা জমিতে মাসকালাই চাষ করেছি। ফলনও ভালোর আশা করছি। তিনি বলেন, নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে ভাল দাম পেয়ে আর্থিক  ভাবে লাভবান হতে পারবো।

চাষী সিরাজুল ইসলাম জানান, অন্য ফসল উৎপাদন করে নায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই লোকসান কমিয়ে আনার জন্য বাড়তি ফসল হিসেবে মাসকালাই চাষ করেছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, মাসকালাই ভাল জাতীয় ফসল। এতে প্রচুর পরিমাণ আমিষ রয়েছে। পতিত জমি ফেলে না রেখে ডাল জাতীয় এই ফসল চাষ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ মাসকালাই চাষে কৃষককের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করছে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*