নানা সংকটে কুষ্টিয়া চিনিকল

বিজনেসটাইমস২৪.কম
কুষ্টিয়া, ০৭ নভেম্বর, ২০১৩:

kuনানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়া চিনিকল। দেশে চিনির ঘাটতি থাকলেও মৌসুম শেষে পড়ে রয়েচে ২৮ কোটি টাকা মূল্যমানের চিনি।

জানা গেছে গুদামজাত এ চিনির বেশির ভাগ খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মজুদকৃত চিনি বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের হুমকিতে আছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খানিকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ বেহাল দশার মধ্যেই শুরু হচ্ছে নতুন মাড়াই মৌসুম। চিনিকল সূত্রে জানা গেছে চলতি নভেম্বর থেকেই মাড়াই শুরু হচ্ছে। এজন্য চাষীদের কাছ থেকে আখ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কিন্তু সংকট হয়ে দাঁড়াবে যখন চাষীদের টাকা পরিশোধ করা হবে।

এদিকে চিনিকলের এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চাষীদের কাছ থেকে কম মূল্যে আখ কিনে গুড় তৈরি শুরু করেছে। ফলে সময় মতো মিলের প্রয়োজনীয় আখ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।

কুষ্টিয়া চিনিকল জেলার সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ জেলার আর্থিক এবং সামাজিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এ মিলের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। মিলের উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি মিলের উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়াতে আরো কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে শুরু করে।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ আখমাড়াই মৌসুমের উৎপাদিত চিনির মধ্যে বর্তমান ৫৬২৫ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় মিলের গোডাউনে মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১১-১২ মাড়াই মৌসুমের উৎপাদিত ২৩৫০ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন চিনির মধ্যে ১২১২ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত এবং ২০১২-১৩ মাড়াই মৌসুমের উৎপাদিত ৪৪১৩ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন চিনির মধ্যে ৪৬১৩ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে।

মোট মজুদকৃত চিনির মূল্য ২৮ কোটি ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বেশি। চিনি বিক্রি না হওয়াতে নানাবিধ সমস্যার মধ্যে থেকে আগামী মাড়াই মৌসুমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ মাসের শেষ সপ্তাহে ২০১৩-১৪ মাড়াই মৌসুম শুরু করা হবে। মজুদকৃত চিনি বিক্রি জরুরি হয়ে পড়েছে। চিনি বিক্রি না হওয়াতে আর্থিক সংকটের মধ্যে পার করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। মিলের সহকারী ব্যবস্থাপক (ষ্টোর) আনিসুর রহমান জানান, মিলের গোডাউন ২টি। যার প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা ৬৫০ মেট্রিক টন। চিনি মজুদ থাকায় একটিতে আর চিনি রাখার মত পরিবেশ নেই। তবে অন্যটি সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে।

সরেজমিনে মিলের গোডাউনে দেখা গেছে ২০১১-১২ মাড়াই মৌসুমের উৎপাদিত চিনি খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বস্তা ভর্তি চিনি গলে চুইয়ে পড়ছে। গোডাউনের মধ্যে বিদঘুটে গন্ধ বের হচ্ছে। গোডাউনের নিচে রসের স্তুপ পড়ে ভিজে রস জমে আছে। এমন পরিস্থিতিতে কারখানা প্রস্তুতির কাজ চলঠে দিনেরাতে।

মিলের সিবিএ সভাপতি শেখ সুলতান আহমেদ জানান, মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে। চিনিশিল্পের জন্য সরকারের আন্তরিকতার অভাবের কারণেই আজ এ শিল্প সংকটের মুখে।

তিনি আরও দাবি করেন, মিলের চিনি বিক্রির জন্য সরকারকে শিগগিরই বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সুগার রিফাইয়ারিং মিলগুলোর চিনি ঠিকই বাজারে বিক্রি হচ্ছে অথচ মিলের চিনি কম মূল্যেম কেউ কিনছে না। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কোটি কোটি মানুষের দিকে চেয়ে সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

সুলতান আহমেদ আরও জানান, সব মিলের চিত্র একই রকম। চিনি বিক্রি না হওয়াতে মিলের অনেক সংকট  মোচন সম্ভব হচ্ছে না।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, চিনি বিক্রির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এককভাবে দায়িত্ব দিলে চিনিকলগুলোর চিনি বিক্রির পথ সুগম হবে। তাছাড়া দেশের চাহিদার চেয়ে চিনির উৎপাদন বেশি হওয়াতে চিনিকলের আখের উৎপাদিত চিনি বিক্রি হচ্ছে না।

এদিকে মিলের গোডাউনে খাবার অনুপযোগী চিনি আগামী মৌসুমে রি-প্রসেস করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*