শিরোনাম:

শাল তৈরীতে সরগরম দেলদুয়ারের তাঁতপল্লী

বিজনেসটাইমস২৪.কম
টাঙ্গাইল, ১৬ নভেম্বর, ২০১৩:

Tangail----6620131107151102শীতকে সামনে রেখে শাল তৈরীতে সরগরম হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার তাঁতপল্লী।
অত্যাধুনিক শাল তৈরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে তাঁতীরা। সাধারণ ক্রেতা ও মহাজনদের চাহিদা পূরণ করতে এখন থেকেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই শাল শ্রমিকরা।

প্রতিবছর এ উপজেলা থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পরে শাল। রুচিশীল ও অত্যাধুনিক ডিজাইনের শাল তৈরিকারক হিসেবে দেলদুয়ারের তাঁতীদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। মানসম্মত হওয়ায় এখানে উৎপাদিত শাল বিক্রি ও রপ্তানি হচ্ছে দেশ বিদেশে।

এছাড়া নানান রঙের সুতোয় বোনা শাল বিক্রি করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে এ এলাকার অনেক যুবক। উপজেলার আবাদপুর, এলাসিন ও লাউহাটী গ্রামের প্রায় কয়েকশ’ পরিবার শাল তৈরির কাজে জড়িত।

তাঁতীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতি পিস শালের দাম ৩ থেকে থেকে ৫শ’ টাকা। আবার কোন শাল ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি তাঁতে প্রায় দিনে ৬/৭ টি শাল তৈরি করা হচ্ছে। শাড়ী ও শাল তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় একই রকম। ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে ৫৫ থেকে ৮০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকে একজন তাঁত মালিক। সেখান থেকে মজুরি হিসেবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দিতে হয় নির্মাণ শ্রমিককে। আর তাঁতির প্রতিটি শাল প্রস্তুত করে লাভ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

এ ব্যাপারে আবাদপুর গ্রামের তাঁতমালিক মুন্নাফ মিয়া জানান, সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তার প্রায় ২১ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।

গত বছরে সব মিলিয়ে প্রায় তার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হয়েছে তাঁর। তিনি আশা রাখেন এ বছরও এমনই আয় হবে।

এ বছর নতুন ডিজাইনে দু’সুতি পাইর, কিরকিরি, নয়নতারা বহুরুপিসহ হরেক নকশার শাল তৈরি করে যাচ্ছেন এখানকার তাঁতিরা।

রহমত নামের একজন তাঁতী জানান, মহাজনদের চাহিদা অনুযায়ী শাল তৈরি করতে পারছেন না তারা। হাতের কাজ হওয়ায় সে চাহিদা পূরণ করা তাদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। এরপরও প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার পিস শাল এ অঞ্চল থেকে সারাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

এ এলাকার ইকবাল ভুইয়া ,জাহাঙ্গির মোল্লা, সফর আলীসহ অনেক বাড়িতেই শ্রমিকরা শাল তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

ইমরান নামের একজন মহাজন জানান, শালকে দৃষ্টিনন্দন ও ক্রেতাদের প্রিয় করতে রং বেরংয়ের সুতার কারুকার্যে শাল তৈরি করার জন্য তাঁতীদের আগে থেকেই তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দেলদুয়ারের তৈরিকৃত এ বছরের শাল সকল প্রকারের ক্রেতাদের নজর কাড়বে বলেও জানান তিনি।

এ শিল্পে সরকারের পর্যাপ্ত পৃষ্টপোষকতা পেলে শাল রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাসহ বেকারত্ব নিরসন সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*