আতশবাজি ফুটানো নিয়ে রণক্ষেত্র কালশী, নিহত ১০

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৪ জুন, ২০১৪:

Mirpurরাজধানীর মিরপুরের কালশীতে আতশবাজি ফুটানোকে কেন্দ্র করে বিহারীদের সঙ্গে এলাকাবাসী এবং পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে গুলিবিদ্ধ আরও একজন ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন।

আরও তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কালশি সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুদ্ধ বিহারীরা।

শবেবরাত উপলক্ষে আতশবাজি (পটকা) ফুটানোকে কেন্দ্র করে শনিবার ফজর নামাজের পর এ সংঘর্ষ শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ১১টা) এ সংঘর্ষ চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের নামাজের পরপরই বিহারী পল্লীর কয়েক তরুণ বাজি ফুটালে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পুলিশ এগিয়ে এলে ওই তরুণদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিহারী পল্লীর লোকজন বেরিয়ে এসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষ প্রায় নিয়ন্ত্রণে এলে সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিহারী পল্লীর কয়েকটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নয়জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনাস্থলে ৯ জনের মৃতদেহ প্রত্যক্ষ করা গেছে।

নিহতরা হলেন- আশিক (২৬), শাহনারা (২৩), লালু (১০), ভুলু (১০), মারুফ (০১), বেবী (৩০), রোকসানা (১৬), আফসানা (১৮) ও ফারজানা (২৩)।

এদিকে, গুলিবিদ্ধ আরও একজনকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার নাম মো. আজাদ (৩৫)। তার বড় ভাই রিয়াজ জানান, সকাল সোয়া ১১টার দিকে বেনারসি পল্লীর শ্রমিক আজাদ কালশী সড়কে গেলে পুলিশের গুলিতে আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের সময় পুলিশের সঙ্গে আসা পল্লবী থানার পরিচ্ছন্নকর্মী আসলাম হোসেন (৫০) রাবার বুলেটবিদ্ধ হন। পরে আরও দুজন শটগানের গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধরা হলেন পানদোকানদার বদর উদ্দিন (৪৫) ও মো. আরজু (২১)। তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মূলত বিহারীদের এ ক্যাম্পে কয়েকটি গ্রুপ সক্রীয় আছে। তাদের মধ্যে অন্ত.কোন্দলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে।

পরে আশপাশের স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় আগুনে পুড়ে কয়েকজন মারা গেছেন। তবে বিহারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মৃতদেহ উদ্ধারের পর বলা যাবে ঠিক কতজন মারা গেছেন।

পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পুলিশ।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*