বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৪

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি?

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ০৯ জুলাই, ২০১৪:

Netherlands-vs-Argentina-Logo-Flags১৯৭৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল নেদারল্যান্ড। সেবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। নেদারল্যান্ডস হারে ৩-১ গোলে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে আবারো মুখোমুখি এই দুই দল।

এ যেন ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা এক ছবি। কারণ বুধবার, সাও পাওলোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪-র দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবারো মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডস। ১৯৯০ সালের পর ২৪ বছর পর এবার সেমিতে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তাই ভক্তদের আশা আর্জেন্টিনা এবার শিরোপা খরা কাটিয়ে উঠবে।

এটা খুবই স্বাভাবিক যে গত ম্যাচে ডি মারিয়ার থাই মাসল ইনজুরির কারণে আর্জেন্টিনা পুরোটাই নিভর্র করবে মেসির উপর। ফলে আগের চেয়েও বার্সা তারকার উপর চাপ বাড়বে কমবে না। ডাচদের মতো এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই জিতেছে আর্জেন্টিনা।

ডি মারিয়া দলের না থাকায় ব্যথিত কোচ আলেহান্দ্রো সাবেলা। তিনি বলেন, মেসি যেন মরুভূমিতে এক মরুদ্যান। কেন না মেসির পায়ে যখন বল থাকে, তখন প্রত্যেকেই আশায় উজ্জ্বীবিত হন। আর বিপক্ষ দলের জন্য এটাই তখন ভয়ের একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্প্যানিশ স্পোর্টস ডেইলি মার্কাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, আর্জেন্টিনা আমার দেশ, আমার পরিবার, আমার আবেগ প্রকাশের পথ। আমার দেশের মানুষকে খুশি করতে আমি সব রেকর্ড ভাঙতে পারি।

এ ম্যাচেও দু দলের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন মেসি
তিনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচে আমরা জিতেছি। আশা করি, এ ধারা যেন ফাইনাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এছাড়াও আর্জেন্টাইন ভক্তদের জন্য আশার খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে এবার দলে ফিরতে পারেন স্যার্খিও আগুয়েরো-ও। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডাচদের রেকর্ড কিন্তু ভালো। বিশ্বকাপে চার বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। হল্যান্ড জিতেছে দুটিতে, আর্জেন্টিনা একটিতে। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে হল্যান্ডের বিপক্ষে চার গোলে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালে কোয়ার্টচার ফাইনালে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় হল্যান্ড। আর ২০০৬ সালে প্রথম রাউন্ডে দুই পক্ষের মধ্যে ড্র হয়।

১৯৭৮-এর ফাইনালের উল্লেখ করে ডাচ গোলরক্ষক টিম ক্রুল বলেন, আমরা যদি শিরোপা জিতি তখনই বলতে পারব যে, আমরা আর্জেন্টিনার উপর উপযুক্ত প্রতিশোধ নিয়েছি। তার আগে নয়।

ডাচ কোচ লুইস ফান খালের মতে, আর্জেন্টিনা একটি চমৎকার দল। কেন না প্রত্যেকটি খেলোয়াড়ের নিজস্ব স্টাইল আছে, যেমন মেসি। কিন্তু প্রথমার্ধে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য তারা পুরোটা ব্যবহার করে না। অর্থাৎ লুইস ফান খালের চেষ্টা থাকবে দলকে এমন করে প্রশিক্ষণ দেয়া যাতে তারা প্রথমার্ধেই এগিয়ে থাকে।

ডি মারিয়া ইনজুরি আক্রান্ত হলেও মেসি থাকায় সাবেলা আপাতত চিন্তিত নন। তবে আরিয়েন রবেন আর ফান প্যার্সিকে আর্জেন্টিনার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন তিনি। এদিকে, চোটের কারণে সেমিফাইনালে হল্যান্ডের বিপক্ষে থাকছেন না আনহেল ডি মারিয়া। আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডারের বিকল্প কে হতে পারেন- এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার সীমা নেই।

এনজো পেরেজ
ডি মারিয়ার মতো গতি না থাকলেও ব্যক্তিগত কৌশলে ভীষণ পারদর্শী পেরেজ। সর্বশেষ মৌসুমে বেনফিকার হয়ে খেলা পেরেজ নির্বাচিত হয়েছেন পর্তুগিজ লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়।

মাক্সি রদ্রিগেজ
রক্ষণভাগের শক্তি বাড়াতে সাবেলা বেছে নিতে পারেন রদ্রিগেজকে। কেননা সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কাঁপাতে তিনি সিদ্ধহস্ত। এছাড়া টানা তিনটি বিশ্বকাপ খেলায় অভিজ্ঞতাও বেশি।

রিকার্ডো আলভারেজ
ধারণা করা হচ্ছে, ডি মারিয়ার জায়গাই আলভারেজই সাবেলার কাছে প্রথম পছন্দ। কেননা মধ্যমাঠে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখতে আলভারেজের জুড়ি মেলা ভার।

ফার্নান্দো গাগো
গাগোকেও ডি মারিয়ার স্থলাভিষিক্ত করা হতে পারে। আর্জেন্টিনা যদি আক্রমণ কমিয়ে রক্ষণে বেশি মনোযোগ দেয়, তবে শুরু থেকেই খাভিয়ের মাসকেরানো ও লুকাস বিগলিয়ার সঙ্গে বোকা জুনিয়র্স মিডফিল্ডার গাগোর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হতে পারে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*