শিরোনাম:

ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ে রাজনীতি ও যথেচ্ছাচার

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪:
B.Bankসরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল ব্যয় নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে এ খাতের বেশিরভাগ অর্থ রাজনৈতিক তদ্বিরে ব্যয় হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ এ অর্থ ব্যাংকের পরিচালকদের মনোতুষ্টিতে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও প্রভাবশালীদের খেয়াল-খুশি মতো ব্যয় করা হয়। আর তহবিল ব্যয়ে কোনো নিয়ম-নীতি না থাকায় বারবার সতর্ক করেও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে যে উদ্দেশ্যে সিএসআর কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল ব্যয়ে ব্যাপক হারে রাজনীতিকরণ চলছে। সেই সঙ্গে লোক দেখানো বা ব্যক্তিগত প্রচারণায় সিএসআরের অর্থ ব্যয় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ব্যাংকের প্রভাবশালীরা
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এখানে ব্যাপক হারে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা তুলনামূলক কম উপকৃত হচ্ছেন। তিনি জনগণের অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে সিএসআর ব্যয়ে আরও জবাবদিহি ও কাঠামো সুসংহত করার আহ্বান জানান।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, সিএসআর ব্যয়ে স্বচ্ছতা রাখতে হবে, নিয়মিত অডিট করতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রায়ই ব্যাংকগুলো উদাসীনতা দেখায়। সিএসআর তহবিল ব্যয়ে খাতভিত্তিক সীমা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি নীতিমালা করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দারিদ্র্য বিমোচনকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংকিং খাতে সিএসআর যাত্রা শুরু করা হয়েছিল। এ খাতের আওতায় শুধু অনুদান নয় বরং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণের কর্মসূচি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের প্রভাবশালীরা এ তহবিলকে নিজের খেয়াল-খুশি মতো ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফেলেছেন।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*