ঋণ ছাড়া ট্যানারি স্থানান্তর সম্ভব নয়

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪:

leather-n-tannery-702x336বিশ্ববাজারে ক্রমেই চাহিদা বাড়ছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের। আর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও প্রসার ঘটছে চামড়াশিল্পের। তবে, ব্যাপক সম্ভাবনার পরও অপরিকল্পিত কারখানা, উন্নত প্রযুক্তির স্বল্পতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় সবটুকু কাজে লাগাতে পারছে না দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এই রফতানি খাত।

স্বাধীনতার সময় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে রাজধানীর হাজারীবাগে ট্যানারির সংখ্যা ছিল ৫০টি। আর গত ৪০ বছরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৬টিতে। এসব কারখানায় সারা বছরের চাহিদার ৪৫ শতাংশেরও বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয় কোরবানীর ঈদে। এই বাড়তি চাপ সামলাতে বিশেষ প্রস্তুতিও নিয়ে থাকেন কারখানা মালিকরা।

চামড়ার মৌসুমে ব্যবসায়ীরা বিশেষ প্রস্তুতি নিলেও পরিকল্পনাহীনতা এই শিল্পটির প্রসারে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই সাভারে পরিকল্পিত ১৫৬টি প্লটে সবগুলো কারখানা স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ সহায়তা না পেলে এই স্থানান্তর প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই। এমবি ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাফফর রহমান বলেন, সরকার যদি ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরে সহজ শর্তে ঋণ দেয় তাহলে চামড়া কারখানাগুলো অতিদ্রুত স্থানান্তরিত হবে। তিনি আরও বলেন, যদি ঋণ সুবিধা না দেওয়া হয় তাহলে সর্বোচ্চ ৪০টি ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরিত হতে পারবে, বাকিরা পারবে না।

সহজ শর্তে রফতানি ঋণ, বন্ড সুবিধা, কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার সম্প্রসারণসহ এই শিল্পের অনুকূলে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাক শিল্পের পরই হবে চামড়া শিল্পের অবস্থান, এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, সম্ভবনাময় এ শিল্প ২০২০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাতে পরিণত হবে। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হলে এখানে আন্তর্জাতিক মানের জুতা ও ব্যাগের কারখানা গড়ে ওঠবে বলেও জানান তিনি।

২০১২ থেকে ২০১৫ সালের রফতানি নীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে চামড়া শিল্পকে। তবে এর পুরোপুরি সুফল পেতে সীমান্ত পথে চামড়া পাচার বন্ধে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দীর্ঘ দিনের দাবি ব্যবসায়ীদের।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*