শিরোনাম:

রামদেবের ওষুধ খেলেই নিশ্চিত পুত্র সন্তান!

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৫:

ramdevএকদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানায় গিয়ে ‘বেটি পড়াও, বেটি বাচাও’ কর্মসূচিতে গিয়ে প্রার্থনা করছেন, যাতে জন্মের আগে লিঙ্গ নির্ধারণ করে কন্যা ভ্রূণ হত্যা না করা হয়। অন্যদিকে, মোদী ঘনিষ্ঠ যোগগুরু বাবা রামদেব ছেলে হওয়ার জন্য ওষুধ বিক্রি করছেন!

তবে সরাসরি ‘পুত্র হওয়ার ওষুধ’ বলে বিক্রি হয় না এ ওষুধ। কিন্তু নাম শুনলে সহজেই বোঝা যায় ওষুধটি কিসের জন্য তৈরি হচ্ছে। ওষুধটির নাম ‘দিব্য পুত্রজীবক বীজ’। ৩৫ টাকায় পতঞ্জলি ফার্মেসিতে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে।

অবাক করার মতো ব্যাপার, এ ওষুধ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় হরিয়ানাতে। যেখানে নারী-পুরুষের অনুপাত সবচেয়ে খারাপ। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থনাও করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা আদৌ পাল্টায়নি।

পতঞ্জলি ফার্মেসিতে কাজ করা শ্যাম সুন্দর নামে এক চিকিৎসক বলেন, ‘ওষুধ খেয়ে যাঁদের পুত্র সন্তান জন্ম হয়, তাঁরা অন্যান্যদের জানান যে ওই ওষুধ খেয়ে তাঁদের পুত্র সন্তান জন্মেছে।’ একটি বেসরকারি সংবাদ চ্যানেলে তিনি স্বীকারও করেন, স্বামীজী তাঁকে এমনটাই বলেছেন যে, ‘যাঁদের ছেলে হচ্ছে না, তাঁদের দিব্য পুত্রজীবক বীজ ব্যবহার করতে পরামর্শ দাও।’

এদিকে ইতোমধ্যেই ভোগ্যপণ্য দুনিয়ায় বড়সড় ছাপ ফেলেছেন যোগগুরু রামদেব। এ ব্যাপারে সম্প্রতি নামী ব্র্যান্ড ইমামি-কে পিছনে ফেলে দিয়েছে রামদেবের পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ কেন্দ্র। সংস্থার ব্যবসার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বার্ষিক ২০০০ কোটি টাকা।
যোগ সাধনা এবং ভোগ্যপণ্য সামগ্রীর মধ্যে কোনও নিকটতম সম্পর্ক আছে বলে কস্মিনকালেও কেউ শোনেননি। যোগের মাধ্যমে কেবল শারীরিক নয়, মানসিক বিকাশও ঘটে। ভোগ্যপণ্যের ব্যবহারে মূলত দেহজ চাহিদা মেটে। আপাত বিপরীতধর্মী এই দুই পৃথিবীতে কিন্তু অনায়াস বিচরণে পারদর্শী যোগগুরু রামদেব।

একদিকে যোগের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের তালিম দিয়ে অগণিত ভক্ত হৃদয়ে তিনি ঠাঁই করে নিয়েছেন, আবার তাঁরই সৃষ্টি পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ কেন্দ্রে প্রস্তুত পণ্য গ্রাহকদের রোজকার জীবনের প্রায় সমস্ত প্রয়োজন মেটাচ্ছে। বর্তমানে পতঞ্জলি গ্রুপ প্রায় সব রকমের ভোগ্যপণ্য তৈরি করছে। এর মধ্যে খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে প্রসাধনী, সবই রয়েছে। ফলে পণ্য বিক্রি করে প্রতিদিন ফুলে-ফেঁপে উঠছে যোগাচার্যের ব্যবসা।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ২০১২ সালে বার্ষিক ৪৫০ কোটির কাছাকাছি ব্যবসা করার পর ২০১৪ আর্থিক বছরে মোট ১২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে রামদেবের সংস্থা। চলতি বছর সেই ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০০০ কোটি টাকায়।
উল্লেখ্য বছরে ১৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে ইতোমধ্যেই পতঞ্জলির কাছে হার মেনেছে ইমামি গ্রুপ।

প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলির চেয়ে পতঞ্জলির তৈরি পণ্যর দাম তুলনায় সস্তা। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিক্রির হার বেশি হয়। পাশাপাশি, পণ্যের বিক্রি বাড়াতে বিজ্ঞাপনের পিছনেও খুব কম টাকা ঢালে রামদেবের সংস্থা। ২০০৭ সালে ব্যবসা শুরুর সময় ফ্র্যাঞ্চাইজির মারফত পণ্য বিক্রি করত রামদেবের সংস্থা। এর পর বিষয়টি নিজের হাতে তুলে নেন বাবা রামদেব। বর্তমানে সারা দেশে পতঞ্জলির নিজস্ব শো-রুমের সংখ্যা ৪০০। ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ১০০০ করাই সংস্থার লক্ষ্য।

এ ছাড়া দেশের বেশ কয়েকটি নামী রিটেল চেনের শপিং মলেও পতঞ্জলির পণ্য বিক্রি হয়। কিছুদিনের মধ্যে অনলাইনেও মিলবে এই সমস্ত ভোগ্যপণ্য। আপাতত মেরিকো গ্রুপের বাৎসরিক ৪০০০ কোটি টাকার লেনদেনের সীমা টপকানোর স্বপ্ন দেখছে যোগগুরু রামদেবের পতঞ্জলি!

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*