খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৪ মার্চ, ২০১৫:

khaledaজিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বহাল রেখেছে আদালত। এছাড়া খালেদাপুত্র ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হাজির হওয়ার আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার মাধ্যমে হাজিরা দেয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।

একই সঙ্গে দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। আজ খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে করা চারটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন।

আজ সকালে আইনজীবীরা খালদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার ও জামিন আবেদন, সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাজিরার সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়। পরে সব আবেদনের ওপর এক সঙ্গে শুনানি হয়। পুরান ঢাকার বকশীবাজার এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদ্দারের আদালতে বুধবার সোয়া ১২টার দিকে শুনানি শুরু হয় এবং এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শুনানি চলে।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল
ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম চলে।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে আসতে পারছেন না।’

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে আদালতকে জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা অবস্থায় আসামি হাজির না হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে তার জামিন দেয়ার বিধান নেই।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারসহ আসামিপক্ষের অন্য সব আবেদন নথিভুক্ত রেখেছেন আদালত। এর ফলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি বহাল থাকলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এদিকে বুধবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আদালত থেকে প্রায় দুইশ গজ দূরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উত্তরের সড়কে হাতবোমাগুলো ফাটানো হয়।এতে কেউ আহত হননি বলে চকবাজার থানার ওসি আজিজুল হক জানিয়েছেন।  এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে সময়ের আবেদনে সানাউল্লাহ মিয়া উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধে নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে হাজিরা হতে পারেননি। এছাড়া বিচারক বদলি চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন করা হয়।

এর আগে খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, আমরা খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার তার বদলে তার সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে। সরকার যদি নিরাপত্তা দিতো তবে খালেদা জিয়া অবশ্যই আদালতে যেতেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে যাবেন না তিনি। গুলশান কার্যালয় যেভাবে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে এ অবস্থায় আদালতে যাওয়া সম্ভব নয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বুধবার বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজির হওয়ার তারিখ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এ দু’টি মামলায় বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*