‘আগামী বছরের মধ্যে শিল্পখাতে ৫০% গ্যাস বৃদ্ধি পাবে’

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ২৯ জুলাই, ২০১৭:

আগামী বছরের মধ্যে শিল্পখাতে ৫০% গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

আজ শনিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ২০৩০: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আগামী একবছরের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী বছরের মধ্যে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পাবে।

সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারাকে বেগবান করার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানা স্থাপনের আহবান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে স্থাপিত মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রধান উৎস হিসেবে পরিণত হবে। ২০১৯ সালে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসবে।

তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, নিজস্ব কয়লা, গভীর সমুদ্রে কূপ খনন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া কিছুটা সময় সাপেক্ষ হওয়ায় সরকার তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

তিনি বলেন, মায়ানমার হতে ক্রস-বর্ডার পাওয়ার ট্রেড-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎআমদানি করা যেতে পারে। তিনি এ খাতের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ স্থায়ীকমিটির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছে। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে কয়লা হতে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে সোলার এনার্জির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের খনিজ সম্পদ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চাহিদা মেটাতে দক্ষ মানবসম্পদ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূরীকরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা ও উৎপাদন বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং তার ভিত্তিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলো হতে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে জ্বালানি উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*