সঞ্চয়পত্রের বিক্রির হার বেড়েছে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ০৪ এপ্রিল, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ০৪ এপ্রিল :

সঞ্চয়পত্রের বিক্রির হার বেড়েছে। মার্চের প্রথম ২০ দিনেই মোট ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের আসল পরিশোধ করা হয়েছে ১,১৫১ কোটি টাকা। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয়েছিল ১,২৮৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০ দিনেই প্রায় এক মাসের সমান বিক্রি হয়েছে। মার্চে বিক্রি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে আশা করছে জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতর। সুদ হার বাড়ানোর পরই বিক্রি বাড়ছে বলে জানা গেছে। গত মার্চ মাস থেকে নতুন সুদ হার কার্যকর হয়েছে। এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নতুন সভাপতি রকিবুর রহমানের নেতৃত্ব আসার পর থেকে বাজার স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। ফলে যাদের সঞ্চয়পত্র কেনা ছিল তারা সেগুলো বিক্রি করে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনায় মনোযোগী হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশের মধ্যে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত এই দুই উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। তবে গত দুই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার ফলে ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারকে অনেকটা নির্ভর করতে হচ্ছে। এ সময়ে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়াটা ইতিবাচক। এতে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের ঋণের চাপ কমবে। তিনি বলেন, সাধারণত নির্দিষ্ট আয়কারী ও অবসর প্রাপ্তরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন। তবে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্রে সুদ হার ও উৎসে কর কর্তনের বিধান নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। সে সময় কর কর্তন, একই সঙ্গে সুদ হার কমানোর ফলে মানুষ বিকল্প পথে বিনিয়োগ করেছে। তবে সম্প্রতি সুদ হার বাড়ানোর ফলে বিক্রি বাড়াটা স্বাভাবিক বলে জানান তারা।
সঞ্চয় পরিদফতরের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, মূল ও সুদসহ পরিশোধ করতে হয়েছে তার তুলনায় বেশি। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের আট মাসে ব্যাংক ব্যবস্থায় বিক্রির তুলনায় পরিশোধ বেশি হয়েছে ১৫১ কোটি টাকা। যদিও সঞ্চয় ব্যুরোর মাধ্যমে পরিশোধের তুলনায় বিক্রি বেশি হয়েছে ১৭ কোটি টাকা এবং ডাকঘরের মাধ্যমে ২৬ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছর সরকার ২২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪০৫ কোটি টাকার মূল ও ৭ হাজার ২৮০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট ৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে আট মাসে মোট বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ সময়ে মূল ও সুদ পরিশোধ করে সঞ্চয় পরিদফতরের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি টাকা। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নিট চার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়াতে গত মার্চ মাস থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে সুদ হার বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় ও ব্যাংক মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর আগে এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ সুদ দেওয়া হতো।

Print Friendly