বাংলা নববর্ষ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৪ এপ্রিল, ২০১২:

সৈকত প্রামানিক
নির্বাহী সম্পাদক
বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল
সবুজ ঘাসের একটি মাঠ। মাঠের কোনায় অনেক পুরানো একটি বটগাছ। এই বটগাছকে ঘিরেই শুরু হয়েছে মেলা। গ্রামের বাড়ি থেকে দূরের এই মেলায় ভীষণভাবে টানে শিশু বয়সের আমাকে। মন চঞ্চল হয়ে থাকে, অস্থির হয়ে যাই মেলায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু বড় কেউ সঙ্গে না গেলে আমাকে একা যেতে দেয়া হবে না। ছোট বেলার সেই স্মৃতি, সেই মনকষ্ট যে মেলাকে ঘিরে সেটি আসলে পয়লা বৈশাখে আয়োজিত গ্রামের মেলা।

প্রতিটি বাঙালির শেকড় যে গ্রামে সেটি বোঝা যায় পয়লা বৈশাখ এলে। শহরগুলোতে বসবাসকারী আমরা বাংলা নববর্ষে যা করি তা আসলে গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা বা প্রকারান্তরে বাঙালির মূল কৃষ্টিতে ফিরে যাওয়া। পয়লা বৈশাখ উদযাপনের সঙ্গে গ্রাম বা কৃষির একটি সম্পর্ক রয়েছে। কৃষি কাজই যে বাঙালির প্রধান পেশা সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পৃথিবীতে প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেদিক থেকে বাংলা নববর্ষ এক অনন্য বৈশিষ্ট্যময় উৎসব; কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের নিমিত্তে এর প্রচলন এবং দিনে দিনে তা হয়ে ওঠে সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে। ধর্ম-সম্প্রদায়নির্বিশেষে বাংলা ভূখণ্ডের সব মানুষের প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। এমন অসাম্প্রদায়িক উৎসব সারা পৃথিবীতেই বিরল।

সুখবর হচ্ছে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বাঙালির অংশগ্রহণ বাড়ছে। প্রতিটি বর্ষবরণ যেন আগের বর্ষবরণকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে-এটি সবার। যে আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ থাকে তাতে আনন্দ বেশি থাকে। আমাদের জীবনে এই একটি উৎসব যেটিতে ধনী, গরীব, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে। সবার শক্তি একত্র হয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়।

একদিন বাঙালি না হয়ে সারাজীবন বাঙালি থাকতে হবে তবেই আমরা এগোতে পারব। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব। পরনির্ভরশীল হয়ে কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। অন্যের সংস্কৃতিকে ধারণ করে কেউ বড় হতে পারে না। আমরা অন্যের সংস্কৃতি কেন ধারণ করব। আমাদের সংস্কৃতি তো ছোট নয়, অবহেলিত নয়। একটা সময়ে ইউরোপ অনেক অনুন্নত ছিল। আমাদের কাছ থেকে তারা সংস্কৃতিসহ অনেক কিছুই নিয়েছে। আমাদের কাছ থেকে নিয়ে তারা সমৃদ্ধ হয়েছে আর আমরা আমাদের নিজের সম্পদকে ব্যবহার করতে পারিনি। ফলে উল্টো আমরা এখন পশ্চিমাদের মুখাপেখী হয়ে থাকি।

শুরুতে শুধুমাত্র গ্রামেই পয়লা বৈশাখের উৎসব হতো এখন শহরগুলোতেই বেশি হয়। রাজধানী ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সূচিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ছাড়াও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়, মেলা বসে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও বসে বৈশাখী মেলা, আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আবার এল বৈশাখ। শুরু হলো আরও একটি নতুন বছর, ১৪১৯ বঙ্গাব্দ। বিজনেসটাইমস২৪.কম এর পক্ষ থেকে আমরা সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

Print Friendly