কক্সবাজারে লবণশিল্পে সাময়িক ধস

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১৫ এপ্রিল, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪ .কম
কক্সবাজার, ১৫ এপ্রিল:

তিন দিনের ঝড়বৃষ্টিতে কক্সবাজারে প্রায় ৫০ হাজার একর জমির লবণ উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে লবণশিল্পে সাময়িক ধস নেমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এতে জেলার প্রায় ৬০ হাজার প্রান্তিক লবণচাষী ছাড়াও লবণ উৎপাদন, বিপণন এবং এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫ লাখ মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন।
জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি হয়। এতে ৫০ হাজার একর জমির লবণ উত্পাদন অন্তত ১০ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
কক্সবাজার বিসিক শিল্প নগরীর লবণ উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয়ক কর্মকর্তা মো. শামীম আলম বলেন, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমের চার মাসে জেলার প্রায় ৫৫ হাজার একর জমিতে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ টন লবণ উত্পাদিত হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অন্তত ৫০ হাজার একরের বেশি জমিতে লবণ উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব মাঠ উত্পাদন উপযোগী করতে আরও ১০ দিন সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি প্রান্তিক চাষী দেড় লাখ টন লবণ উত্পাদনের সুযোগ পাবেন না। টেকনাফের শীলখালী গ্রামের চাষী সোলতান আহমদ (৩৪) বলেন, গত ২ ও ৩ মার্চ বৃষ্টি হলে লবণ উত্পাদন বন্ধ থাকে। এরপর মাঠ ঠিক করে উত্পাদন শুরু হলে ৭ মার্চ আবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্পাদন আরও কয়েক দিন বন্ধ থাকে। আবার উত্পাদন শুরু হলে গত ১১ এপ্রিল থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় লবণ উত্পাদন। এখন আরও ১০ দিন লবণ উত্পাদন বন্ধ থাকলে ঋণের টাকা শোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ লবণ চাষী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে প্রায় ৫০ হাজার একর জমির লবণ উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষীরা।
কক্সবাজার লবণ মিলমালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেভাবে লবণ উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে, তাতে মনে হচ্ছে এ বছরও লবণ আমদানি করতে হবে।
ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার একর জমির লবণ উত্পাদন কক্সবাজারে উৎপাদিত লবণ দিয়েই দেশের চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ হচ্ছে। বর্তমানে জেলার ৬০ হাজার প্রান্তিক চাষী ছাড়াও প্রায় ৫ লাখ মানুষ লবণ উত্পাদন, বিপণন ও এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখ্য, ২০১১-১২ অর্ধবছরে কক্সবাজারে লবণের চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ লাখ ৭ হাজার টন। এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টন।

Print Friendly