এবার পশুর চামড়ার দাম কম

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১০ নভেম্বর, ২০১১:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
এবার পশুর চামড়ার দাম কম। গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে।

খুচরা পর্যায়ে গত বছর মাঝারি আকারের গরুর চামড়া প্রতি পিসের দাম ছিল গড়ে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এ বছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার বেশি দাম ওঠেনি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় প্রতি পিস গরুর চামড়ার দর কমেছে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

সাধারণত কোরবানির মৌসুমে একদিনের জন্য চামড়া সংগ্রহ করে আড়তদারের কাছে বিক্রি করেন এমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কেনা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকের সংগ্রহ করা চামড়া পচে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পর্যায়ের চামড়ার আড়তদারদের দায়ী করেছেন। আর আড়তদার এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন পরস্পরের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারসাজির অভিযোগ করেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গতকাল জানান, স্থানীয়ভাবে আড়তদার পর্যায়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের কারণে এ বছর চামড়ার প্রকৃত দর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আড়তদাররা চামড়ার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বেশি দর আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আরও ২-৩ দিন পর চামড়া সংগ্রহ করা হবে। তখন প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যাবে। তবে এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দর ১৫ শতাংশ হারে কম থাকায় স্বাভাবিক কারণে কোরবানির মৌসুমে গত বছরের দর পাওয়া যাওয়ার কথা নয়। ট্যানারি মালিক পর্যায়ে কোনো ধরনের কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশ কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গতকাল বলেন, খোলা বাজার থেকে যে কেউ চামড়া কিনতে পারেন। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশেনের নেতারা বিভিন্ন মাধ্যমে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। সুতরাং আমাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ সত্য নয়। দর কম প্রসঙ্গে আফতাব বলেন, চার মাস ধরেই চামড়ার দর কমছে। অন্যদিকে আড়তদার পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতির জন্য রাজধানীর ট্যানারি মালিকদের দায়ী করেন। বগুড়ার চামড়া আড়তদার আবদুর রউফ জানান, গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয় কম দামে এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর সারাদেশের আড়তদাররা কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। খুচরা ব্যবসায়ীদের ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হারে আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয়েছে। রউফ বলেন, গত বছর ট্যানারি মালিকরা দর বেঁধে না দিয়ে চামড়ার ভালো দর দেওয়ার কথা বলেও পরে টালবাহানা করেন। ফলে বেশি দামে চামড়া কিনে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি গুনতে হয়। সে অভিজ্ঞতায় এ বছর ঈদের আগে থেকে ব্যবসায়ীরা ট্যানারিগুলোকে আগাম রেট নির্ধারণ করে দিতে দাবি জানালেও ঈদের পর পর্যন্ত দর নির্ধারণ করা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারের পড়তি দরের অজুহাতে কম দামে চামড়া কিনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার গরুর চামড়া গড়ে কেনা হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ এবং ছাগল ১৫০ টাকায়।

Print Friendly