বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ০৯ মে:
শেয়ারবাজার নিয়ে কিছু হলে বিনিয়োগকারীরা মিছিল মিটিং করে, ভাংচুর করে অনেকে আবার আত্বহুতি দেয়। বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় নতুন করে রিট গ্রহণ করতে সম্মত হননি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ । তবে বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট ড. এম জহিরের শক্ত যুক্তির কারণে আদালত দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন। গত সোমবার পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্সের পরিচালক আবুল বাশারের দায়ের করা রিটের সময় আদালতে সংঘটিত হয় এ ঘটনা।
এরপরের দিন (মঙ্গলবার) ডেল্টা লাইফের ১১ পরিচালক ও ফনিক্স ফাইন্যান্সের ২ পরিচালকের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট রফিক উল হক একই বেঞ্চে সকালে রিটটি উথাপনের পর বিকালে শুনানিতে আনতে বলেন। বিকালে শুনানির শুরুতেই দুই বিচারপতি একই বিষয়ে পূর্বে রিট থাকায় রিটটি বাদ দেয়ার পক্ষে মত দেন। এরপর অভিজ্ঞ আইনজীবি রফিক উল হক আগের রিটের বিষয়বস্তুর বাইরে এই রিট করা হচ্ছে বলে সীট দাখিল করেন। কোর্ট বিচার বিশ্লেষণ করে এক সপ্তাহের রুল জারি ও বিনিয়োগকারী এসোসিয়েশনকে পক্ষভুক্ত করতে নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট রফিক উল হক এসইসির ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ , নির্দেশনাটি সংবিধানের ৪৭ ধারার পরিপন্থী ও তাঁর মক্কেলের পক্ষে এত স্বল্পতম সময়ে এত বেশি সংখ্যক শেয়ার ক্রয় করা সম্ভব নয় বলে আদালতকে অবহিত করেন। আদালত বিষয়গুলো গুরুত্ব মনে করেই রুল জারি করেন। তবে ওইদিন ডেল্টা লাইফের রিটকারী ১১ পরিচালককে আদালতে দেখা যায়নি। তবে একই কোম্পানির ২ শতাংশের বেশি শেয়ারধারণকারী পরিচালক মো:মনজুরুর রহমানকে আদালতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বিজনেসটাইমস২৪ ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ২ শতাংশ শেয়ার রাখার নির্দেশনা সঠিক বলে আমি মনে করি। বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে এখন শেয়ার ক্রয় না করে রিট করার বিপক্ষে আমি। আপনি আদালতে এসেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দেখতে এসেছি আদালত কি জাজমেন্ট দেয়। ওইদিন ফনিক্স ফাইন্যান্সের পরিচালক এ কাদির চৌধুরী ও রিজিয়া ইউনুস আদালতে আসেন। তারা দুজনেই দাবি করেন, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর কখনও শেয়ার বিক্রি করেননি। তাহলে তাদেরকে কেন এ শাস্তি দেয়া হচ্ছে প্রশ্ন রাখেন। যারা বিক্রি করেছে তাদেরকে ক্রয় করার নির্দেশনা সঠিক বলে মনে করেন। তবে তাদের আইনজীবি এই বিষয়টি আদালতে না তুলে অন্য বিষয় কেন তুলল জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
দুই দিনের রিট নিয়ে আমরা কথা বলি সরকার পক্ষের কৌশুলি অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা রিটের জবাব প্রস্তুত করে রেখেছি। একাধিক রিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিক ব্যক্তি একই বিষয়ে রিট করতে পারেন। আদালত সেটা গ্রহণ করায় একই সঙ্গে শুনানি হয়ে নিষ্পত্তি হবে। তিনি আরো বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে এসইসি সক্রিয় চিন্তা করছে।
এদিকে এসইসিও গতকাল কমিশন বৈঠকে এসইসির নির্দেশনা বৈধ হিসেবে দালিলিক কাগজপত্র প্রস্তুত করেছে।
গত কয়েকদিনে আদালতে বিচারপতিদের শেয়ারবাজার সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক রিট গ্রহণ করতে একপ্রকার বিব্রত হতে দেখা যায়। আইনজীবিদের শেয়ারবাজার ও দেশের স্বার্থ চিন্তা প্রসূত কথা বলতেও শোনা যায়। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।




