বন্ধ হতে পারে ফ্লাইট; বেবিচকের পাওনা ৩১৭ কোটি

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১০ মে, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১০ মে:
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ দেশীয় চারটি বিমান সংস্থার কাছে অ্যারোনটিক্যাল ও নন অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ’র (বেবিচক) পাওনা ৩১৭ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৩ টাকা।

এই পাওনা পরিশোধ না করার কারণে যে কোনও সময় ওই ৪ প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার মত কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে বেবিচক।

চার প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই পাওনার মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ আছে ২২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৪ হজার ৯৪২ টাকা। আর নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ ৯০ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫১ টাকা পাওনা।

বিমান সংস্থাগুলোকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এই টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। পাওনা টাকা আদায়ের দায়িত্ব খোদ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এ কাজে ব্যর্থ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবার শরণাপন্ন হয়েছে বিমান মন্ত্রণালয়ের।

সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি বিমান সংস্থাগুলোকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বিমান সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই পাওনা পরিশোধ করছে না। বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বারবার বিমান সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বেবিচক চিঠি দেয় বিমান সংস্থাগুরোকে। কিন্তু এতেও কোনো সাড়া মেলেনি।

পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান গত ৬ মার্চ এই চিঠি দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে। চিঠির মাধ্যমে পাওনা আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ জানান।

চিঠিতে বলা হয়, বিমান সংস্থাগুলোর নিকট বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। অর্থ আদায় করতে না পারায় অডিট আপত্তি দিচ্ছে সরকারি হিসাব সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি। এজন্য কমিটির কাছে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বেবিচককে।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ ২২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৪ হাজার ৯৪২ টাকা পাওনা। সবমিলিয়ে বিমান সংস্থাগুলোর কাছে মোট ৩১৭ কৈাটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ৬শ ৯৩ টাকা অনাদায়ী রয়েছে।  সবচেয়ে বেশি বকেয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে। বিমানের কাছে  বকেয়া ২৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৫৩১ টাকা।

এর মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ ১৭৪ কোটি ৫১ লাখ ৬৬,৫৪৮ টাকা ও নন অ্যারোনটিক্যাল বাবদ ৮০ কোটি ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৩ টাকা।

জিএমজি এয়ারলাইন্সের বকেয়া ৫০ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৪০৯ টাকা। এর মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল বাবদ ৪৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৮শ ৪৮ টাকা ও নন অ্যারোনটিক্যাল বাবদ ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫শ ৬১ টাকা।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বকেয়া ১০ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ১শ ২২ টাকা। এর মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল ৯ কোটি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৯ শ ১৫ টাকা ও নন অ্যারোনটিক্যাল বাবদ ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ২শ ৭টাকা।

শুধু অভ্যন্তরীন রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে পাওনা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬শ ৩০ টাকা। এর মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬শ ৩০ টাকা এবং নন অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা অনাদায়ী রয়েছে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*