ব্যাংকিং খাতে কর কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিবি’র সুপারিশ

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ১২ মে, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১২ মে :

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) আসন্ন (২০১২-২০১৩) বাজেটে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কর্পোরেট কর কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে। ব্যাংকের উদ্যোক্তারা কর কমানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল। সম্প্রতি উদ্যোক্তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই বিবি থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্তমানে পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কর ৩৫ শতাংশ এবং নন-পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ৩৭.৫০ শতাংশ কর্পোরেট কর আরোপিত আছে। কিন্তু সেখানে ব্যাংকিং ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর ৪২ শতাংশ ধার্য রয়েছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে করের হার খুব বেশি। এজন্য ব্যাংকের উদ্যোক্তারা অনেক দিন ধরে কর কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান করপোরেট কর কমানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কতটুকু কমানো হবে সে ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

বিবি সূত্রে আরো জানা গেছে, পূর্বে ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট করের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে সেটা কমিয়ে ৪২ শতাংশ করা হয়।

অন্যদিকে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের দাবি, কমপক্ষে ২.৫০ শতাংশ কর্পোরেট কর কমালে ব্যাংকিং খাত আরো উন্নত হবে। আর কর কমলে ব্যাংকিং খাতে সুদের হারও কমে যাবে।

কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে উচ্চ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। ফলে সঙ্গত কারণেই কর্পোরেট কর কমিয়ে আনা প্রয়োজন। বিবি থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো সুপারিশে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর ফলে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্ব^স্তি ভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, আর্থিক খাতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ব্যাংকগুলোকে বেশি কর দিতে হচ্ছে। এটা কমানো দরকার। কারণ ব্যাংকের কর কমলে সুদের হারও কমে যাবে। ফলে ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতারা লাভবান হবেন।

বিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে দেশের ৪৭টি ব্যাংক মোট ৭ হাজার ২৬২ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছে। ওই বছরে ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে ১৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিবির নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ৩ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা প্রভিশন রেখে করের টাকা জমা দিয়েছে। আর সবকিছু বাদ দিয়ে গত বছর ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা হয়েছে ৯ হাজার ১২১ কোটি টাকা।

এ সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪টি ব্যাংক ৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফার বিপরীতে প্রভিশন বাদ দিয়ে ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত খাতের ৪টি ব্যাংক পরিশোধ করেছে ১১৫ কোটি টাকা, বেসরকারি খাতের ৩০টি ব্যাংক ১২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফার বিপরীতে ৪ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা কর দিয়েছে এবং বিদেশি মালিকানার ৯টি ব্যাংক ২ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফার বিপরীতে প্রভিশন বাদ দিয়ে ৮৮১ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*