বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১২ মে :
এ বছর সেপ্টেম্বরের আগেই দ্বিতীয় প্রজন্মের (টু-জি) মোবাইলফোন সেবার লাইসেন্স নবায়ন করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। বর্তমানে আদালতে বিটিআরসির বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের মামলার কারণে এটি ঝুলে আছে।
বিটিআরসি মনে করছে, সহসা এ মামলার নিষ্পত্তি না হলেই তারা দেশের চারটি মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণ, রবি, বাংলালিংক ও সিটিসেলের লাইসেন্স নবায়ন করে দিতে পারবেন। এর পরপরই তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি-জি) মোবাইলফোন সেবার লাইসেন্সের জন্য নিলাম ডাকতে পারবেন।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি থ্রি-জি সেবার জন্য নিলাম ডাকতে প্রস্তুত। ওই খসড়া নীতিমালাটি বর্তমানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করার কাজ করছে। তারা নিলামের চূড়ান্ত তারিখ জানাবেন। এ ক্ষেত্রে তারিখের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ ২০১০ সালে সংশোধিত টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী যেকোনো সেবার জন্য বিটিআরসি নীতিমালার খসড়া করে থাকে, মন্ত্রণালয় এটি চূড়ান্ত করে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়া আহমেদ গতকাল জানিয়েছেন, মোবাইল অপারেটরদের টু-জি লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত আদালতের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার জন্য আইনজীবীদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। টু-জি লাইসেন্স নবায়নের পরই বিটিআরসি থ্রি-জি লাইসেন্স নিলামের ব্যবস্থা করবে।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থ্রি-জি লাইসেন্সের নিলাম আয়োজনের কথা ভাবছে। এ সময়ের আগেই টু-জি লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি সুরাহা হবে কি না জানতে চাইলে জিয়া আহমেদ বলেন, বিটিআরসির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়টি আদালতে উঠবে এবং দ্রুত এর সমাধান হবে।
গত মঙ্গলবার গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টোরে জনসেন বলেছিলেন, টু-জি লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি থ্রি-জির ব্যাপারে ভাবতে পারছে না।
গত বছরের ১০ নভেম্বর মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেলের টু-জি লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। লাইসেন্স নবায়ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও অপারেটরদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে।
গত ২৮ মার্চে থ্রি-জি লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় বিটিআরসি। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থ্রি-জি মোবাইল সার্ভিস লাইসেন্সের নিলাম হবে।
‘সেলুলার মোবাইলফোন সার্ভিস (থ্রি-জি থার্ড জেনারেশন) ফোর-জি) ফোর্থ জেনারেশন)/এলটিই (লং টার্ম এভ্যুলেশন) রেগুলেটরি লাইসেন্স গাইড লাইন ২০১২’ নামে এ খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার জন্য বর্তমানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচটি অপারেটরকে থ্রি-জি লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি পাঁচ মোবাইল অপারেটরের মধ্যে তিনটিকে এবং নতুন এক অপারেটরকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টেলিটক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ লাইসেন্স পাবে। ১৫ বছরের জন্য অপারেটররা থ্রি-জি লাইসেন্স পাবে।




