বিজনেসটাইমস২৪.কম
ডেস্ক, ১২ মে :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ‘রূপগঞ্জ আর্থসামাজিক উন্নয়ন সংস্থা’ (রাসাস) বাঁশ ও বেতের কাজ শিখিয়ে এলাকার নারী-পুরুষদের স্বাবলম্বী করে তুলছে। রাসাসের সহায়তায় উপজেলার সাত-আটটি গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ বর্তমানে বাঁশ ও বেতের পণ্য তৈরি করছেন। এগুলো বাজারজাত করছে রাসাস। এ কাজের মাধ্যমে এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
রাসাস রূপগঞ্জের এসব এলাকার নাম দিয়েছে সোনারগাঁও কুটিরশিল্প পল্লী। প্রতিষ্ঠানটি কারিগরদের কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিক্রির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে দুই কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জের পেরাব বাজার। এখান থেকেই সোনারগাঁও কুটিরশিল্প পল্লী শুরু। রাস্তার দুই পাশে এ পল্লীর অবস্থান।
পল্লী এলাকার বাঁশজাত পণ্য তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, অনেক আগে থেকেই এসব গ্রামে বাঁশের পণ্য তৈরির কাজ চলে আসছে। রাসাস এ শিল্পকে আরও সম্প্রসারিত করেছে।
এখানে ‘বাঁশের ডালা, কুলা, মাছের খাঁড়ি, আইসক্রিমের কাডি, বানা, চাঁই, ওড়া, মোড়া, চাঙ্গাড়ি (এক ধরনের বাঁশের ঝুড়ি) ইত্যাদি ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়। যখন যেটার অর্ডার পাওয়া যায় তখন সে পণ্য তৈরি করা হয়।
কুটিরশিল্প পল্লী সম্পর্কে রাসাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীন জানান, দেশে বাঁশজাত পণ্যের ব্যবহার কমতে থাকায় এর সঙ্গে জড়িত কারিগরদের মধ্যে পেশা পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে। ১৯৯৮ সালে রাসাস এলাকাটি জরিপ করে দেখে, হাতেগোনা দু-একজন ছাড়া কারিগর বলতে কেউ নেই। রাসাস নারীদের কর্মতৎপর ভেবে তাদের কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি মানসিকভাবে উজ্জীবিতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিগত সহযোগিতা দান, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির প্রতিশ্রুতিসহ নানা বিষয়ে সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় রাসাস বাঁশের তৈরি এসব পণ্য তাদের নিয়োগকৃত এজেন্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি শুরু করে। ২০০০ সালে এনজিওটি দেশ থেকে রফতানিকৃত কাঁচামালের প্যাকেট সরবরাহের অর্ডার পায়। সে সময় দোলখাচি তৈরির হিড়িক পড়ে পল্লী এলাকায়। রাতারাতি কয়েক গুণ কারিগর বৃদ্ধি পায়। তা ছড়িয়ে পড়ে সাত-আটটি গ্রামে। রাসাস এলাকাটির নাম দেয় কুটিরশিল্প পল্লী।
জয়নাল আবেদীন জানান, প্রথমদিকে তৈরিকৃত মালামাল রাসাস কিনে নিলেও বর্তমানে পল্লী এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন। ফলে পণ্য বিক্রিতে শিল্প পল্লীর কারিগরদের এখন ঝামেলায় পড়তে হয় না। বিভিন্ন পাইকার, দোকানদার, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে বাঁশজাত পণ্য ক্রয়ে। এ জন্য দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা। ২০০১ সাল থেকে শিল্প পল্লীর উৎপাদিত পণ্য নিয়মিত সোনারগাঁও লোক ও কুটিরশিল্প মেলায় যোগ দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। কারিগরদের তৈরি ব্যবহারিক পণ্যের পাশাপাশি বাঁশের বাঁশি, ডুগডুগি, ঈশাখাঁর বাঁশের প্রতিকৃতি, চরকা, নাটাইসহ বিভিন্ন পণ্য বেশ বিক্রি হয় মেলায়। এরপর থেকেই বাঁশের পণ্যের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাঁড়তে থাকে।




