বিজনেসটাইমস২৪.কম
ঢাকা, ১৬ মে :
গ্রামীণফোন ১ হাজার ৫৮০ কোটি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৭০ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। নতুন গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করলেও সেই সিম বদলি (রিপ্লেসমেন্ট) হিসেবে দেখানো হয়েছে। এভাবেই বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে— এমনটাই দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি অনিয়ম মামলাও (নং ৫৮/২০১২) করেছে এনবিআর। পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে গ্রামীণফোনকে চিঠি
দিচ্ছে এনবিআর।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রামীণফোনের রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ এনবিআরের হাতে আছে। ফাঁকির অর্থ আদায়ে চিঠির খসড়াও তৈরি হয়েছে। এ সপ্তাহেই চিঠিটি গ্রামীণফোনে পাঠানো হবে।
গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক এ প্রসঙ্গে জানান, এনবিআরের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য গ্রামীণফোন পায়নি। তাই এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের কোনো মন্তব্যও নেই।
গ্রামীণফোনের তথ্য অনুসারে, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৪টি সিম বদল হয়েছে। তবে এনবিআর মনে করে, আসলে সিম বদলের নামে উল্লিখিতসংখ্যক নতুন সিম বিক্রি করেছে গ্রামীণফোন। এ বিক্রিতে ফাঁকি দেয়া ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সঠিক সময়ে রাজস্ব না দেয়ায় ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত করসহ গ্রামীণফোনের কাছে এনবিআরের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৭০ টাকা। এর মধ্যে সম্পূরক শুল্ক ১ হাজার ৩৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ৯০২ এবং ভ্যাট ও অতিরিক্ত কর বাবদ ৫৪৫ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৬৬৭ টাকা।
এনবিআর মনে করে, গ্রামীণফোনের শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকির এ ঘটনা মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ৩, ৫(৭), ৬, ৭ এবং একই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এনবিআরের অভিযোগ, ২০০৮ সালের অক্টোবরে গ্রামীণফোনের সিম বদল হয় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৮১টি। একই মাসে নতুন সিম ইস্যু করা হয় ৫৯ হাজার ১৫৪টি। ২০০৯ সালের এপ্রিলে ৫ হাজার ৫টি নতুন সিম বিক্রি হয় আর বদল হয় ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬০টি। একই বছরের মে মাসে ৩৯ হাজার ২৭৫টি নতুন সিম বিক্রি হয় আর ৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৭টি সিম বদলের ঘটনা ঘটে। জুনে নতুন সংযোগের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩১৫ আর সিম বদল হয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। ২০১০ সালের জুলাইয়ে ৬৪ হাজার ৫০২টি নতুন সিম ইস্যু হয় এবং বদলে দেয়া হয় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৭টি। একই বছরের আগস্টে নতুন সিম ইস্যু হয় ৫৬ হাজার ৮০৭টি আর বদলে দেয়া হয় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬২টি।
জানা যায়, কোনো কারণে ফোন হারিয়ে গেলে বা সিম নষ্ট হলে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে সিম বদলে নিতে পারেন গ্রাহক। এ জন্য কোনো কর দিতে হয় না। প্রথম যিনি সিম কিনবেন, তিনিই শুধু সুযোগটি পাবেন। ভিন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কিন্তু গ্রামীণফোন হারানো সিম প্রথম গ্রাহকের নামে ইস্যু না করে নতুন গ্রাহককে একই নম্বরের সিম দিয়েছে। এভাবে গ্রামীণফোনের নতুন গ্রাহক তৈরি হয়েছে বলে মনে করে এনবিআর।
জানা গেছে, সেলফোন কোম্পানি কর্তৃক সিম বদলে দেয়ার নামে নতুন সিম বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকির প্রবণতা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের তদন্ত দল গ্রামীণফোনের দফতরে সিম বদলের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত শুরু করে। এ সময় নতুন সিম বিক্রির তুলনায় সিম বদলের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি পায়। এ ঘটনা এনবিআরের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে ৯ মে এনবিআর এ বিষয়ে একটি অনিয়ম মামলা করে। এখন প্রস্তুতি চলছে পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়ার। চিঠিতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাওনা অর্থ সরকারি কোষাগারে কেন জমা দেয়া হবে না, তার কারণসংবলিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।




