সাতক্ষীরার সরকারি গলদা হ্যাচারির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

বিজনেসটাইমস২৪.কম
, ২৩ মে, ২০১২:

বিজনেসটাইমস২৪.কম
সাতক্ষীরা, ২৩ মে:

নানামুখী সমস্যার মধ্যেও সাতক্ষীরার একমাত্র সরকারি গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারিটি এবারও তার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে সেটা জেলার চাহিদার তুলনায় কম।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধি পেলে এ সম্ভবনাময় গলদা হ্যাচারির উৎপাদিত পোনা জেলার চাহিদা মিটিয়েও অন্যান্য এলাকায়ও সরবরাহ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আঞ্চলিক মত্স্য অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার জন্য ৪ লাখ পোনা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যা এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, এ বছর ৪ লাখ পোনা উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা। আর উত্পাদিত প্রতিটি পোনা বিক্রি করা হয়েছে এক টাকা করে। গত বছর এ হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৫৪ হাজার। যা চলতি মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলায় প্রতি বছর গলদা পোনার মোট চাহিদা রয়েছে প্রায় ২২ লাখ। কিন্ত সরকারিভাবে পোনা উত্পাদন করা হয় চাহিদার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। আর বাকি পোনা উত্পাদন হয় বেসরকারিভাবে।

এদিকে চিংড়ি চাষীরা জানান, বাইরে থেকে যে পোনা উৎপাদন হয় তা মানসস্মত না। ফলে ওইসব পোনা ঘেরে ছাড়লে ঝুঁকি থেকে যায়।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ আঞ্চলিক মত্স্য কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র পন্ডিত জানান, ৯০ দশকে প্রতিষ্টিত হওয়ার পর থেকে এ সম্ভাবনাময় গলদা হ্যাচারিটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জিত হয়ে আছে। উত্পাদন বাড়াতে গেলে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এছাড়া লোকবলের অভাব রয়েছে শুরু থেকেই। এসব সমস্যা দূর হলে এখানকার উত্পাদিন পোনা জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য এলাকাও সরবরাহ করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

সাতক্ষীরার জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবদুল অদুদ জানান, কালিগঞ্জের গলদা হ্যাচারির পোনা খুবই মানসম্মত উপায়ে উত্পাদন করা হয়ে থাকে। এর চাহিদাও ব্যাপক। কিন্ত জেলার চাহিদা অনুযায়ী পোনা উত্পাদন করা যায় না।

তিনি জানান, হ্যাচারির বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে পারলে এটি আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে। তখন জেলার মোট চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

Print Friendly

মন্তব্য প্রদান করুন

*


*