ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী দেশি শঙ্খশিল্প। বেকার হয়ে পড়ছেন শাঁখা কারিগর, নকশাশিল্পীসহ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। মারাত্মক জীবিকার সংকটে এসব পরিবারগুলো। ফলে বাধ্য হয়েই বিকল্প পেশায় চলে যাচ্ছেন অনেকে।
ভারত থেকে চোরাই পথে শাঁখা আনায় সয়লাব দেশি শাঁখার বাজার। এতে যেমন বিঘ্নিত দেশি এ শিল্পের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা, তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিও ।
সম্প্রতি দেশের শঙ্খশিল্পের সূতিকারগার রাজধানীর বিখ্যাত শাঁখারিবাজারে ঘুরে জানা গেছে, এ শিল্পের চলমান এসব দুরবস্থা। কেবল শাঁখারিবাজারেই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় শঙ্খশিল্পের বাজারগুলোতেও খোঁজ নিয়েও জানা গেছে একই চিত্র।
কারিগর শম্ভুনাথ ধর। জীবনের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন শাঁখা তৈরির কাজ করে। তিনিও এ শিল্পের বর্তমান চলমান দুরবস্থার নানা কথা তুলে ধরেন।
শাঁখারিবাজারের শাঁখাশিল্প বহু প্রাচীন হলেও শঙ্খশিল্পী কারিগর সমিতির গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৭ সালে। আগে হাতে কাটা করাত দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে শাঁখা ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি হলেও সমিতি গড়ে ওঠার পর শাঁখারিবাজারে পরিবর্তন আসে।
কারিগরেরা সমিতির অফিসে করাত জমা দিয়ে মেশিনে শাঁখা তৈরি শুরু করেন। আগে ৭০-৮০ জন কারিগর কাজ করলেও মেশিন আসার পর এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৫-২০ জনে। এখানকার কারিগরেরা আগে প্রতিদিন এক হাজার জোড়া শাঁখা ও পলা সারাদেশে সরবরাহ করতেন। এখন এর দ্বিগুণ শাঁখা বিক্রি হলেও প্রায় সবটাই আনা হচ্ছে ভারত থেকে।
কারিগররা জানান, ব্যবসায়ী ও শঙ্খশিল্পী মিলে শঙ্খশিল্পী কারিগর সমিতির ১৭৫ জন সদস্য থাকলেও ভারত থেকে নিন্মমানের শাঁখা আনা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীরা আর সমিতি ও কারিগরদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখছেন না।
শাঁখারিবাজারের শাঁখা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মা মনসা, শূর প্রোডাকশন ইত্যাদি দোকানে গিয়ে ভারতীয় শাঁখা বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিক্রি করা শাঁখা কোথাকার জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে চাননি এসব ব্যবসায়ীরা।
শাঁখারিবাজারের প্রায় দোকানিই সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে অন্যজনকে দেখিয়ে দেন এসব বিষয়ে কথা বলতে।





